বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের (Assembly Election 2026) আগে শহরের পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় গাফিলতির ছবি সামনে আসতেই তৎপর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কলকাতার (Kolkata) একাধিক বুথে বিদ্যুৎ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরে।ভোটের দিন যাতে নির্বিঘ্নে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার (Kolkata) বিদ্যুৎহীন ভোটকেন্দ্র:
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতার ১০০টিরও বেশি ভোটকেন্দ্রে এখনও বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই। এই তথ্য সামনে আসতেই চমকে উঠেছেন কমিশনের কর্তারা। প্রতিটি বুথে ভোট চলাকালীন আধুনিক ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগেই। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিষেবায় যদি না থাকে, তাহলে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ওই বুথগুলিকে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার কথা বলেছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই বুথগুলিতে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য যেন, কোন বুথে ওয়েব কাস্টিং ব্যাহত না হয়, সেই দিকেই এখন নজর কমিশনের।
গ্রামাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ-এর সমস্যা হবে, তা আগেই জানত কমিশন। তাই সেখানে আগে থেকেই কমিশন বিকল্প বিদ্যুৎ পরিষেবার পরামর্শ দিয়েছিল। এদিকে কলকাতাতেই যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল। প্রসঙ্গত রাজ্যের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র করা হয় স্কুলগুলিতে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ রাজ্য সরকারের। তারা এই সমস্ত স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করেনি। তাই সমস্যা হচ্ছে।”
জানা যাচ্ছে, ওই সব বুথগুলিতে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ করা হবে, প্রয়োজন বুঝে জেনারেটর বসানো হবে। সূত্রের খবর, সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা গিয়েছে কলকাতা বন্দর এলাকায়। ওই এলাকায় ৫০টিরও বেশি বুথে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। অতীতে এইসব বুথে কীভাবে ভোট হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নত ওয়েব কাস্টিং সম্ভব নয়। এমনকি ভোট পর্যালোচনার জন্য সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলোর ব্যবস্থা দরকার হয়, নয়তো ভোটগ্রহণে সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন : উত্তরবঙ্গে কড়া নজর কমিশনের, ‘স্পর্শকাতর’ বুথে এবার কী নতুন ব্যবস্থা জানেন?
বিদ্যুৎ সংযোগ নয় সমস্যা রয়েছে প্রতিটি বুথে পানীয় জল ও শৌচালয়ের। বহু বুথেই এই ব্যবস্থা নেই বলেই জানা যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ডিইও-দের। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে চলছে নির্বাচন কমিশনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।












