বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় আলোর রোশনাই, মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল আর উৎসবকে ঘিরে নতুন নতুন আকর্ষণ। এবার সেই উৎসবের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও একটি বিশেষ আয়োজন। গঙ্গার ধারের মিলেনিয়াম পার্ক (Millennium Park) থেকে শহরের ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজ—দুই জায়গাতেই দেখা যাবে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের উদ্যোগে মিলেনিয়াম পার্ক-৩-এ দুর্গাপুজোর ভাবনায় সাজানো আলো ও শব্দের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
মিলেনিয়াম পার্কে (Millennium Park) লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো
মিলেনিয়াম পার্ক-৩-এ নতুন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমন। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় সাত মিনিট ধরে চলবে এই প্রদর্শনী। আলো, সুর ও শব্দের সমন্বয়ে দুর্গাপুজোর আবহকে তুলে ধরাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। দর্শকদের জন্য শো দেখার সময়ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে এই প্রদর্শনী দেখানো হবে। প্রতিটি শো শেষ হওয়ার পর পরবর্তী প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে তিন মিনিটের বিরতি থাকবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দর্শনার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো এই আয়োজন দেখতে পারবেন।
যাঁদের পক্ষে মিলেনিয়াম পার্কে গিয়ে শো দেখা সম্ভব হবে না, তাঁদের জন্যও বিকল্পের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও দর্শকরা অনলাইনে প্রদর্শনীটি উপভোগ করতে পারবেন। মিলেনিয়াম পার্কের আয়োজনের পাশাপাশি হাওড়া ব্রিজেও যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তির আলোকসজ্জা। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার নাম ডায়নামিক আর্কিটেকচারাল ইলুমিনেশন। এর বিশেষত্ব হল, নির্দিষ্ট কোনও রঙে সেতুকে সাজিয়ে রাখার পরিবর্তে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উৎসব কিংবা বিশেষ দিনের সঙ্গে মিলিয়ে আলোর রং ও বিন্যাস বদলানো যাবে। শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আলো প্রদর্শনের ব্যবস্থাও থাকছে।
এই প্রকল্পে মোট ৩,৮২৫টি আলোকযন্ত্র বসানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১২০ ওয়াটের ৯০০টি লিনিয়ার লাইট, ৩০০ ওয়াটের ৩৩৬টি ফ্লাডলাইট এবং ৪২৫ ওয়াটের ১৩৬টি ফ্লাডলাইট। এ ছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে ৩০ ওয়াটের ২,৩০০টি স্কেলেটাল লিনিয়ার লাইট, ৩০ ওয়াটের ১২১টি প্রোফাইল ও ক্রাউন লাইট এবং ৪৫০ ওয়াটের ৩২টি মনোকালার লাইট। গোটা আলোকসজ্জা ব্যবস্থার জন্য মোট বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ ৩৮৫ কিলোওয়াট।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কাজে লাগিয়ে নতুন পথচলা! সংসার সামলে ব্যবসার স্বপ্ন দুই জায়ের
শুধু সেতুকে আলোকিত করাই নয়, সুরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নানা ধরনের আলোর প্রদর্শনী তৈরি করাও এই ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণ মানুষের কাছে এই দৃশ্য পৌঁছে দিতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে শো সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখার কথা জানানো হয়েছে। কলকাতার ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ।














