বাংলাহান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে কর্মীদের জন্য ফের খারাপ খবর। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনে (Amazon) নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের (Mass Layoffs) খবর সামনে এসেছে। সংস্থার বিভিন্ন টিমে এক হাজারেরও কম শ্বেতপোশাকধারী কর্মীর চাকরি গিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। বুধবার অ্যামাজনও ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মূলত সংস্থার ‘স্টোরস’ বিভাগের বিভিন্ন অংশে এই রদবদল হয়েছে। কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটপ্লেস সাপোর্ট এবং রিটেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রের কর্মীরাও এর প্রভাবের মুখে পড়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত (India) ও ব্রিটেনেও কয়েকজন কর্মী ছাঁটাইয়ের নোটিস পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
উৎসবের মরশুমে ফের বিপুল পরিমাণে কর্মী ছাঁটাই অ্যামাজনে (Amazon)
নতুন করে চাকরি যাওয়ার খবর সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কর্মীদের মধ্যে। ছাঁটাইয়ের পর তাঁদের কী ধরনের সুবিধা মিলবে, সংস্থার অন্য বিভাগে কাজের সুযোগ থাকবে কি না, কিংবা ভবিষ্যতে আরও কর্মী কমানো হবে কি না—এই ধরনের প্রশ্ন ঘুরছে কর্মীদের মধ্যে। অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক চ্যানেলে ছাঁটাই সংক্রান্ত পোস্টও শেয়ার করেছেন কয়েকজন কর্মী। তবে অ্যামাজন কতজনকে ছাঁটাই করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্টোরস ব্যবসার কিছু অংশে কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকদের অগ্রাধিকার এবং ব্যবসার বর্তমান লক্ষ্য আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় (Amazon)।
আরও পড়ুন:ভারতীয় দলে কড়া প্রতিযোগিতা! গম্ভীরের মন জিতে বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে উইকেটকিপিং শিখছেন এই তারকা
অ্যামাজনের এই পদক্ষেপ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। গত বছর থেকেই সংস্থায় বড়সড় কর্মী সংকোচন চলছে। সেই সময় প্রায় ৩০ হাজার পদ কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এবার ফের তুলনামূলক ছোট পরিসরে ছাঁটাই হলেও কর্মীদের মধ্যে তার প্রভাব যথেষ্ট। বিশেষ করে সংস্থার মূল অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভাগগুলিতে এই পরিবর্তন হওয়ায় ভবিষ্যতে অ্যামাজনের কর্মী কাঠামো কোন দিকে যায়, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মহামারির সময়কার নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোভিড-১৯ পর্বে মানুষ বাড়িতে থাকায় অনলাইন কেনাকাটা আচমকা বেড়ে গিয়েছিল। সেই বিপুল চাহিদা সামাল দিতে অ্যামাজন দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল। বেজোসের মতে, সেই সময়ে সংস্থার কর্মী সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনলাইন ব্যবসার গতি ও চাহিদার ধরন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অতিরিক্ত কর্মী কাঠামো ধীরে ধীরে কমানোর প্রয়োজন দেখা দেয়।

আরও পড়ুন:গম্ভীর নন, এই মেন্টরের পরামর্শে সফল হচ্ছেন শ্রেয়স! খুব শীঘ্রই ছুঁয়ে ফেলবেন কোহলির এই বিরাট রেকর্ড
ফলে সাম্প্রতিক ছাঁটাইকে অ্যামাজন (Amazon) বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই দেখছে। সংস্থার দাবি, ব্যবসার অগ্রাধিকার বদলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু পদ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের এই পরিবর্তনের সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে। অন্যদিকে, কর্মীদের কাছে নতুন এই ছাঁটাই ফের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের ব্যস্ত মরশুমে যখন অ্যামাজনের বিক্রি তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই কর্পোরেট স্তরে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মী কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।













