মহুয়ার ‘ডিপি’ বদল, দল বদলাচ্ছেন তৃণমূলের অগ্নিকন্যা? জোর জল্পনা সোশ্যাল মিডিয়ায়

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সেই কোন দুর্গাপুজোর আগে। তারপর থেকেই উত্তপ্ত হয়েছিল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল এটা নিয়ে। আর এবার তো ‘প্রশ্নঘুষ’কাণ্ডে মহুয়ার (Mahua Moitra) সাংসদ পদই খারিজ করে দেওয়া হল। যদিও এতেও মহুয়ার দাপট একই রয়ে গেছে। স্পষ্টই জানিয়েছেন, ‘আমার বয়স ৪৯, আগামী ৩০ বছর সংসদের ভিতরে এবং বাইরে লড়ব।’

   

আর এবার বহিষ্কৃত সাংসদকে ঘিরে শুরু নয়া বিতর্ক। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ডিপিই বদলে ফেললেন তিনি। মহুয়া মৈত্রর ডিপি বদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রাক্তন সাংসদের নয়া ডিপিতে রাহুল গান্ধী রয়েছেন, সোনিয়া গান্ধী রয়েছেন। আর রয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারপর থেকেই বহিষ্কৃত সাংসদকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

তবে কি এবার দল বদলে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মহুয়া? আপাতত এই প্রশ্নেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও এখনও পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে মহুয়া বা তার দলের কেউই মুখ খোলেননি। তবে সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই বেশ ঝাঁঝালো মেজাজে রয়েছেন মহুয়া। একটার পর একটা তোপ দেগে চলেছেন বিজেপিকে। তার কথায়, তিনি নির্দোষ, তার বিরুদ্ধে কোনওরকম আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ নেই। এমনকী, সংসদের লগ ইন আইডি দেওয়া নিয়ে যে এত হল্লা করা হচ্ছে, নিয়ম অনুযায়ী সেটাও বেআইনি নয়।

আরও পড়ুন : সময় দিলেন মোদী! টাকা চাইতে ৩ দিনের দিল্লি সফরে মমতা, জল্পনা তুঙ্গে

যদিও বিজেপিও মহুয়াকে ছেড়ে কথা বলছেনা। এইদিন সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘চুরি চামারি করার পর ধরা পড়লেই মহিলা হয়ে যাবেন? SC, ST, Minority হয়ে যাবে? চোর তো চোরই হয়। তিনি ৩৫ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন পার্লামেন্টে। তার ব্যবহার, আচার আচরণ একটা উদাহরণ হওয়া উচিত। এটা আমাদের কাছে খুবই লজ্জার যে, বাংলার একজন মহিলা সদস্য চুরির দায়ে সাংসদ পদ খুইয়েছেন। বাংলার এই ইমেজ সারা ভারতবর্ষের কাছে যাবে।’

আরও পড়ুন : লজ্জা! ‘যন্ত্রণার ১০০০ দিন’, প্রতিবাদে মস্তক মুণ্ডন করালেন মহিলা SLST চাকরিপ্রার্থী

mohua moitra

এমন পরিস্থিতিতে মহুয়াকে নিয়ে প্রশ্ন হাজারো। যারমধ্যে অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হল, মহুয়া কি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে লড়তে পারবেন? উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলায় দু বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেই সাংসদ পদ খোয়ানোর পাশাপাশি ৬ বছরের জন্য ভোটে লড়া থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মহুয়ার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি, তাই তিনি ভোটে দাঁড়াতে পারবেন। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বলেছেন, মহুয়াকে টিকিট না দেওয়ার কোনও কারণ তিনি দেখছেননা। এবং দলও তার পাশেই আছে। এমন পরিস্থিতিতে মহুয়ার ‘ডিপি বদলানো’ কি সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ নাকি তা নিছকই রাজনৈতিক মনের জল্পনা? উত্তর দেবে সময়।