বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলার সুপ্রিম রায় নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Dearness Allowance) পক্ষে রায় দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতার সম্পূর্ণটা মিটিয়ে ফেলতে হবে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ। এখন কর্মচারী মহল অপেক্ষায় রয়েছে বকেয়া ডিএ হাতে পাওয়ার।
ডিএ হাতে পেতে অপেক্ষায় সরকারি কর্মীরা | Dearness Allowance
বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য রাজ্যকে ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে, ৩১ মার্চের মধ্যে। তবে আদালত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রথম কিস্তি ৬ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। একইসাথে গোটা প্রক্রিয়াটি কতটা কার্যকর হলো সেই নিয়ে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে রাজ্যকে।
পাশাপাশি বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং আরও দুই বিচারপতি। ২৫ শতাংশ দেওয়ার পরেও বাকি ৭৫% বকেয়া ডিএ-র কীভাবে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ওই চার সদস্যের কমিটি।
কিন্তু ৫ থেকে ১৮, এতদিন কেটে গেলেও এখনও এই বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি রাজ্য। এই নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ সরকারি শূন্যপদ শূন্য রয়েছে। এদের বেতন ও ভাতা দিতে যে টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা সরকারের বেঁচে যাচ্ছে। বলেন, ‘টাকার ব্যাপারটা তো এই সব টাকা আমাদের। ৬ লক্ষেরও বেশি সরকারি পদ শূন্য। ৬ লক্ষ সরকারি পদের বেতন, ভাতা দিতে কত টাকা লাগে, সেটা দিতে হচ্ছে না।’
মলয়বাবুর অভিযোগ, কর্মীদের হকের সেই টাকা দিয়েই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘যুবশ্রী’ বা বিভিন্ন পুজো কমিটিকে অনুদান দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই টাকাগুলোতেই তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী অন্যান্য মেলা, দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে দিচ্ছেন।’
একইসাথে তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের চাপে সরকার ডিএ দিতে বাধ্য। তাঁর কথায়, ‘আজ মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন সরকারি কর্মীদের ডিএ দিতেই হবে। এবং মার্চ মাস পর্যন্ত শেষ হলে সেখানে ২৫% প্লাস এই যে হাইপাওয়ার কমিটি রয়েছে তাঁদের কাছে বলতে হবে ৭৫ শতাংশের কত শতাংশ প্রথম কিস্তি সরকারি কর্মীদের ওই যে অর্ডারের প্রেক্ষিতে ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।’

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে SSC নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু, ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কাউন্সেলিং
তিনি বলেন, ‘প্রথমে ২৫% পেলাম প্লাস প্রথম যে কিস্তিটা সেটা কত দেবে, ১৫ হতে পারে, ২০ হতে পারে, ২৫ হতে পারে। অন্তত ৩৫ বা ৪০ বা ৫০% ডিএ ৩১ মার্চের মধ্যে আমরা পেয়ে যাচ্ছি। দিতেই হবে সরকারকে। এখান থেকে নিস্তার নেই।’ আদালতের নির্দেশে ২৫ শতাংশ বকেয়া এবং হাইপাওয়ার কমিটির সুপারিশ, সবমিলিয়ে ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মীরা ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিএ পেতে পারেন বলে আশা করছেন মলয় মুখোপাধ্যায়। কর্মীদের পাওনা টাকা আর সরকার আটকে রাখতে পারবে না এবং মার্চ মাসের শেষেই কর্মীরা বড় কোনো সুখবর পেতে চলেছেন বলেও ধারণা করছেন তিনি।












