বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Dearness Allowance) পক্ষে বিরাট রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চের, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে কড়া ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে। (Government Of West Bengal)। তবে সরকার যদি সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ও অমান্য করে তাহলে কী হতে চলেছে? এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়।
ডিএ ইস্যুতে বড় কথা বললেন মলয়বাবু | Dearness Allowance
তিনি বলেন, ডিএ মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ‘সিভিল আপিল’ হিসেবে বিচারাধীন। এসএলপি খারিজ হলেও মামলাটি এখনও জীবন্ত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার করলে তা সরাসরি ‘কনটেম্পট অফ কোর্ট’ বা আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এরপরই বিস্ফোরক দাবি করে মলয়বাবু বলেন, সুপ্রিম নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটায়, তবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের, বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং অর্থ সচিবের জেল হেফাজত পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
উল্লেখ্য, বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই কর্মীদের ২৫% বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। বকেয়া ডিএ-র ২৫% ৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৬ মার্চের মধ্যে। আর ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে রিপোর্ট। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হলো কি না, তা জানাতে একটি রিপোর্ট (কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট) জমা দিতে হবে সর্বোচ্চ আদালতে।
পাশাপাশি বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং আরও দুই বিচারপতি। ২৫ শতাংশ দেওয়ার পরেও বাকি ৭৫% বকেয়া ডিএ-র কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ওই চার সদস্যের কমিটি।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বের ওই কমিটি বকেয়া ডিএ কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ মে। এদিকে ডিএ মামলার রায় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রায়ের কপি রিভিউ করা হবে। আমাদের তৈরি করা এই ৫ সদস্যের কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং তারা যে রিপোর্ট বা পরামর্শ দেবে সেই মতো সরকার কাজ করবে।’ ডিএ বিষয়ে আদালতের রায় পর্যালোচনা করে সমস্ত সমস্যা দূর করতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি ৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীদের পোয়া বারো! হোলির আগেই ফের একবার বাড়বে DA, এবার কত শতাংশ?
এই বিষয়ে মূল মামলাকারী মলয়বাবু বলেন, ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং সিএজি-এর মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে চার সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তৈরি করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সেখানে রাজ্যের এই কমিটি বড়জোর কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তবে আদালতের মূল নির্দেশ বা রোডম্যাপ পরিবর্তন করার কোনো আইনি এক্তিয়ার কমিটির নেই বলে জানান তিনি।












