‘আবার বিচার চাইব’ ভোটার তালিকা নিয়ে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করলেন মমতা

Published on:

Published on:

Mamata Banerjee assures public about voter list
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election) ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চাপানউতোরও তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে আলিপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) একদিকে যেমন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনালেন, তেমনই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্কে ফের আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন।

ভোটের তালিকা নিয়ে সরব মমতা (Mamata Banerjee)

আজ ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন। আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই তিনি এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।

মমতা ব্যানার্জির কথায়,”আমি মনে দুঃখ নিয়ে করছি কারণ এত নাম বাদ গিয়েছে মানুষের। আমরা এখনও বলব এটা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার ছিল। ৩২ লক্ষ নাম উঠেছে এক কোটি কুড়ি লক্ষের মধ্যে। তাও আমার কেস করার জন্য। বাদবাকি ৫৮ লক্ষ খোলাই হয়নি। এর মধ্যে কিছু নাম বাদ যাবে যারা ডুপ্লিকেট ভোটার অথবা মৃত ভোটার। বাদবাকি আডজুডিকেশনে যে ২৭ লক্ষ নাম বাকি আছে তাদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”

উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ৬ তারিখ রাতেই ভোটার তালিকা চূড়ান্তভাবে ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রথম দফার ভোটে তারা অংশ নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তরফে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

এদিন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুললেন মমতা‌ বন্দোপাধ্যায়। বলেন,”পরে নাম তুললে কী হবে, তারা তো ভোট দিতে পারবে না। কোর্ট বলেছিল যারা আডজুডিকেশনে আছে তারা জেনুইন ভোটার। কোর্ট বলেছিল তারা ট্রাইব্যুনালে বাদবাকি লোক যাবেন সেখানে সেটেল হবে। তাহলে ফ্রোজেন করে দেওয়ার মানে কী? আমি বুঝছি না। এটা নিয়ে আমরা আবার বিচার চাইব।”

Mamata Banerjee assures public about voter list

আরও পড়ুন : ভোটের আবহে খাস কলকাতায় টাকার পাহাড়! তল্লাশিতে উদ্ধার ৫৭ লক্ষ

তবে বিতর্কের মাঝেও আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়েনি তাঁর গলায়। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের সকলকে বলি আমি ৩৬৫ দিন এখানে থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম-বর্ণ-আন্দোলন সব ভবানীপুরকে ঘিরে। আমি ছোট থেকেই এখানে থাকি। এখান থেকেই আমার সবকিছু। ভবানীপুরের মানুষকে আমার ধন্যবাদ। ভবানীপুরের পাশাপাশি ২৯৪ কেন্দ্রেই জোড়াফুল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। সরকার আমরাই করব।” ভোটের আগে একদিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস—এই দুইয়ের মিশেলে রাজ্যের নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।