সাসপেন্ড হলেও চাকরি যাবে না! ৭ আধিকারিককে নিয়ে বড় ঘোষণা মমতার

Published on:

Published on:

Mamata Speaks After 7 Officers Suspended by EC
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেউ চাকরি হারাচ্ছেন না। তবে আপাতত নির্বাচনের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁরা অন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেন তিনি।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)?

মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। কমিশনকে ‘তুঘলকি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার আগে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “তাঁদের দোষ কী, তা কি জানতে চাওয়া হয়েছিল?” তিনি বলেন, যদি কেউ ভুল করে থাকেন, তা রাজ্য সরকারকে জানানো যেত। কিন্তু তদন্ত না করেই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “তাঁরা কাজ করবেন। নির্বাচনের কাজের বাইরে অন্য কাজ করবেন। চাকরি যাচ্ছে না।” প্রয়োজনে পদোন্নতির কথাও বলেন তিনি।

কারা সেই সাত জন?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের দুই এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুন্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ‌ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার এইআরও দেবাশিস বিশ্বাস। এই সাতজনকে সরাসরি সাসপেন্ড করে নির্বাচন কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, ভোট ঘোষণার আগেই কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হল? তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে সংখ্যালঘু, তফসিলি ও গরিব মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে। এক বিএলও-র মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট লেখা হয়েছিল। কমিশনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মত তাঁর। শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে আমরা চুপ করে থাকব না।”

Mamata Banerjee Alleges Election Commission Trying to Elect Government Before Polls

আরও পড়ুনঃ অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩০০০ টাকা! কারা পাবেন যোগ্যশ্রী প্রকল্পের সুবিধা?

কেন সাসপেন্ড?

এই সাত আধিকারিক ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে এইআরও ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তোলে নির্বাচন কমিশন। রবিবার মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। পরে কমিশন সরাসরি তাঁদের সাসপেন্ড করে এবং এইআরও দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেয়।