বড় নাশকতার আগেই অ্যাকশন! বারামুলা থেকে উদ্ধার ১৪ রকেট গ্রেনেড, জঙ্গি খোঁজে সেনা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) ফের বড়সড় জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে নিরাপত্তা মহলে। রবিবার বারামুলা জেলায় তল্লাশি অভিযানের সময় জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পায় নিরাপত্তাবাহিনী। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক বিস্ফোরক, রকেট চালিত গ্রেনেড এবং বিদেশি অস্ত্র। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, পুলওয়ামা হামলার ধাঁচে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। সময়মতো অভিযান চালিয়ে সেই ছক ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেই দাবি প্রশাসনের। একই সঙ্গে রাজৌরির সীমান্তবর্তী এলাকায় তিন পাকিস্তানি জঙ্গির খোঁজে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।

জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) বারামুলা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার

রবিবার বারামুলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলার চান্দোসা এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, CRPF এবং ৫২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর জঙ্গিদের একটি গোপন ডেরা চিহ্নিত করা হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ রকেট চালিত গ্রেনেড ও বিস্ফোরক। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৪টি OG-7V এবং ৯টি PG-7P গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে। এগুলি মূলত রুশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক হিসেবে পরিচিত। এত পরিমাণ সামরিক মানের অস্ত্র একসঙ্গে উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে উপত্যকায়।

আরও পড়ুন:অভিনয়ে তুখোড়, পড়াশোনার দৌড় কতদূর ‘তটিনী’ তৃণার, জানেন?

নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশের মতে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভাণ্ডারের পরিমাণ এবং ধরন দেখে মনে করা হচ্ছে, জঙ্গিরা বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিশেষ করে সেনার কনভয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিকে নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার স্মৃতি এখনও তাজা দেশের মানুষের মনে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপত্যকায় আরও জোরদার করা হয়েছে নজরদারি। সেনা সূত্রে খবর, অভিযানের পর থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয়েছে জঙ্গিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অস্ত্র মজুত করে জঙ্গিরা আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে।

অন্যদিকে রাজৌরি সীমান্তের গম্ভীর মুঘলান জঙ্গলেও শনিবার রাত থেকে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওই এলাকায় তিন পাকিস্তানি জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস এবং অত্যাধুনিক নজরদারি যন্ত্র ব্যবহার করে চলছে তল্লাশি। সেনাবাহিনীর হোয়াইট নাইট কর্পস জানিয়েছে, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’। সেনার বিশেষ বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনও করা হয়েছে।

উপত্যকায় সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে বলেই মনে করছে গোয়েন্দা মহল। পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গিরা উপত্যকায় নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে বহুদিন ধরেই আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকাগুলিতে গত কয়েক মাসে একাধিকবার সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়েছে। তারই মধ্যে এত পরিমাণ সামরিক বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে সতর্ক হয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সেনা ঘাঁটি এবং কনভয় রুটগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (Jammu and Kashmir)।

Massive quantity of explosives recovered from Baramulla, Jammu and Kashmir.

আরও পড়ুন: কোয়েটায় সেনার ট্রেনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! বালোচ বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত অন্তত ২৪ পাক জওয়ান

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই জঙ্গিরা নতুন করে হামলার ছক কষছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ করে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, উপত্যকায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। বারামুলা ও রাজৌরির ঘটনায় স্পষ্ট, এখনও সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র।