কোয়েটায় সেনার ট্রেনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! বালোচ বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত অন্তত ২৪ পাক জওয়ান

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) বালোচিস্তান প্রদেশে ফের রক্তাক্ত হামলার মুখে পড়ল পাক সেনাবাহিনী। রবিবার সকালে কোয়েটার কাছে সেনা বহনকারী একটি ট্রেনে ভয়াবহ ফিঁদায়ে হামলা চালায় বালোচ বিদ্রোহীরা। বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। তাঁদের মধ্যে বহু সেনাকর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচ বিদ্রোহী সংগঠনগুলি। এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর উপর হওয়া সবচেয়ে বড় হামলাগুলির অন্যতম বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানে (Pakistan) ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ২৪ জন সেনা

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে কোয়েটা ক্যানটনমেন্ট থেকে একটি বিশেষ ট্রেন পাক সেনাদের নিয়ে রওনা দিয়েছিল। ট্রেনটি চমন ফাটক স্টেশনের কাছে পৌঁছতেই বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে ভয়ংকর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এরপরই ট্রেনে আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর পর্যন্ত শোনা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আশপাশে থাকা কয়েকটি বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডের জঙ্গলে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ল ১৪ হেক্টর বনভূমি! তদন্তে বন দফতর

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল, সেনাবাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল। আহতদের দ্রুত কোয়েটার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রক্তের সংকট মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে রক্তদানের আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। বিস্ফোরণের জেরে রেলপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে গোটা এলাকায় সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই হামলার পর ফের সামনে এসেছে জাফার এক্সপ্রেসের স্মৃতি। গত এক বছরে বালোচিস্তানের বিভিন্ন ট্রেন বারবার বিদ্রোহীদের নিশানায় এসেছে। রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রেন লাইনচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। গত বছর মার্চ মাসে জাফার এক্সপ্রেস অপহরণ করে বালোচ বিদ্রোহীরা। সেই সময় বিদ্রোহীদের দাবি ছিল, পাক সেনার সঙ্গে যুক্ত ২১৪ জন পণবন্দিকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেই দাবি অস্বীকার করে। কিন্তু তারপর থেকেই বালোচিস্তানে রেল ও সেনা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে।

পাকিস্তান (Pakistan) থেকে স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বালোচিস্তানের একাংশ। সেই আন্দোলনের জেরে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন ‘বালোচ লিবারেশন আর্মি’ বা বিএলএ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম এবং নির্যাতনের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। তারই প্রতিবাদে বিদ্রোহীরা আরও সংগঠিত হয়ে হামলার পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শুধু বিএলএ নয়, পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালিবানের কার্যকলাপও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে শাহবাজ শরিফ সরকারের কাছে। দুই বিদ্রোহী সংগঠনের চাপে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।

24 Soldiers Killed in Massive Explosion in Pakistan

আরও পড়ুন: কঙ্গোয় ইবোলার থাবা! সতর্ক ভারত, আফ্রিকার তিন দেশে সফরে নিষেধাজ্ঞা

সাম্প্রতিক অতীতে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, পাসনি এবং গদর সহ একাধিক এলাকায় পাক সেনার উপর আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সেনা বহনকারী ট্রেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর উপর এভাবে হামলা হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ইসলামাবাদে। হামলার পর গোটা বালোচিস্তানে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের খুঁজতে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। তবে পরিস্থিতি যে এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তা স্পষ্ট প্রশাসনের তৎপরতা থেকেই।