বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদে গুলি করে খুন করা হল পুলওয়ামা হামলার (Pulwama Attack) সঙ্গে যুক্ত এক জঙ্গিকে। সূত্রের খবর, নিহত জঙ্গির নাম হামজা বুরহান। বৃহস্পতিবার অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজেরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। শরীরে একাধিক গুলি লাগার পর ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হয় হামজা। পরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও হামলাকারীদের পরিচয় বা হামলার নেপথ্যের কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি সামনে আসেনি।
পাকিস্তানে আততায়ীর গুলিতে নিকেশ পুলওয়ামা হামলার (Pulwama Attack) মাস্টারমাইন্ড হামজা:
ঘটনাটি ঘটেছে মুজফফরাবাদ এলাকায়, যা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার সময় হামজা একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। সেই সময় মোটরবাইকে করে আসা কয়েকজন বন্দুকবাজ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর আততায়ীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘মেলোডি’-র সৌজন্যে কূটনীতিতে নয়া চমক! ভারত-ইতালির মধ্যে এবার স্পেশাল স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ
নিরাপত্তা মহলের দাবি, হামজা বুরহান দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তের ওপারে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হওয়ার ঘটনায় তার নাম তদন্তে উঠে এসেছিল বলে সূত্রের দাবি। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, পুলওয়ামা হামলার নেপথ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চক্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিল হামজা। শুধু তাই নয়, কাশ্মীরের যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ।
হামজার বাড়ি ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রত্নিপোরা এলাকায়। প্রায় সাত বছর আগে বৈধ নথিপত্র ব্যবহার করেই সে পাকিস্তানে যায়। সেখানে গিয়ে সে আল-বদর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় এবং ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডার হয়ে ওঠে। নতুন জঙ্গি নিয়োগ, সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র সরবরাহ এবং কাশ্মীরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তারের দায়িত্বও তার উপর ছিল বলে জানা গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, পাকিস্তানে বসে সে জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপের পরিকল্পনা করত।

আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত! বিমানের জ্বালানির ওপর কমল VAT, লাভবান হবেন যাত্রীরা?
তবে হামজার মৃত্যুর পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একাংশের মতে, এটি জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। আবার অন্য মহলের ধারণা, এটি পরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি নেতা একইভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে জঙ্গি সংগঠনগুলির অন্দরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল (Pulwama Attack)।













