বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে সমগ্র পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে। এই আবহেই Microsoft Azure থেকে শুরু করে Amazon Web Services (AWS)- এর মতো বিশ্বের বৃহত্তম ক্লাউড কোম্পানিগুলি দুবাই, আবুধাবি এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংক্রান্ত (Data Center) কাজকর্ম স্থানান্তর করছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে, এই বড় সংস্থাগুলি এখন তাদের সার্ভার এবং ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য ভারত এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকছে।
ভারতে ডেটা সেন্টার (Data Center) স্থানান্তর Microsoft-Amazon-এর:
ড্রোন হামলা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ: আসলে, এই বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূল কারণ হল উপসাগরীয় দেশগুলিতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলা। গত ২ মার্চ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) ২ টি AWS ডেটা সেন্টার এবং বাহরিনের একটি সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই হামলার প্রভাব এতটাই ব্যাপক ছিল যে স্থানীয় ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলি হিমেশের মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও, দুবাই এবং কুয়েতের মতো প্রধান শহরগুলিতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এমনকি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বাধ্য হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শেয়ার বাজারও বন্ধ রাখতে হয়। অ্যামাজনের নিজস্ব তথ্য অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের বেশকিছু পরিষেবা হয় সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হয়েছে অথবা তাদের মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। তাছাড়া, ইরানের তেহরানে অবস্থিত Microsoft Azure-এর একটি ফেসিলিটিকেও টার্গেট করা হয়। ফলস্বরূপ, এই সংস্থাগুলি তাদের গ্রাহকদের মধ্যপ্রাচ্য থেকে অবিলম্বে তাদের ডেটা স্থানান্তর করার জন্য সতর্ক করেছে।

ভারত একটি নতুন নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে: জানিয়ে রাখি যে, ইন্টারনেটের দুনিয়ায় দূরত্বের সরাসরি প্রভাব গতির ওপর পড়ে। যেটিকে প্রযুক্তিগত ভাষায় বলা হয় ‘ল্যাটেন্সি’। অর্থাৎ, সোজা কথায় একটি ডেটা সেন্টার যত দূরে থাকবে, ততই ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তত ধীর গতিতে চলবে। এমতাবস্থায়, ব্যাঙ্কিংয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজের জন্য, এই কোম্পানিগুলির উপসাগরীয় দেশগুলির কাছাকাছি একটি নিরাপদ অবস্থানের প্রয়োজন ছিল। তাই, মুম্বাই থেকে শুরু করে চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ এবং কোচির মতো ভারতীয় শহরগুলিতে এখন জরুরি ভিত্তিতে ডেটা সেন্টারের জায়গা খোঁজা হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে, ESDS সফটওয়্যার সলিউশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পীযূষ সোমানি জানিয়েছেন, ভারত এবং সিঙ্গাপুরের কাছে দুর্দান্ত আন্ডারওয়াটার কেবল নেটওয়ার্ক রয়েছে।
তাছাড়া, গত এক বছরের মধ্যে ভারতে প্রচুর সংখ্যক ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে কোম্পানিগুলির জন্য জায়গা এবং পরিকাঠামো সহজেই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপ জিতে টাকার বৃষ্টি টিম ইন্ডিয়ায়! চমকে দেবে প্রাইজ মানির অঙ্ক
অর্থনীতির জন্য বিরাট সুযোগ: বর্তমানে জরুরি পরিস্থিতিতে ডেটা ভারতে পাঠানো হলেও দেশের অর্থনীতির জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে। বিদেশি কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছে যে সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থিতিশীল থাকতে পারে। তাই, তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ ব্যাকআপ বিকল্প হিসেবে ভারতকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতে ধনকুবেরদের তালিকায় ফের প্রথম স্থানে মুকেশ আম্বানি! সম্পদের পরিমাণ কমল আদানির
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিও নিরাপদ। কিন্তু, সেখানে স্থান ও বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। অপরদিকে, ভারতের কাছে প্রচুর সম্পদ এবং অনুকূল সরকারি নীতি রয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স থেকে শুরু করে আদানি, টাটা এবং এলএন্ডটির মতো ভারতীয় সংস্থাগুলির সাথে বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলি ভারতের ডেটা সেন্টার সেক্টরে ২৭০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এমতাবস্থায়, আগামী ৫ থেকে ৭ বছরে ভারতের ডেটা ক্ষমতা ১.৪ গিগাওয়াট থেকে ১০ গিগাওয়াটে বৃদ্ধি হওয়ার অনুমান করা হচ্ছে।












