বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটমুখি বাংলায় একের পর এক বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। জঙ্গলমহলেও তার অন্যথা হয়নি। জঙ্গলমহলের বেলপাহাড়ির দুটি গ্রামে তৃণমূল ছেড়ে একসঙ্গে শতাধিক পরিবার বিজেপিতে (BJP) যোগ দেওয়ায় নতুন করে চাপ বাড়ল শাসক শিবিরের উপর।
জঙ্গলমহলে বড়সড় দলবদল (BJP)
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি এলাকায় হঠাৎই বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের ছবি সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, জোড়াম এবং জামতলগোড়া, এই দুই গ্রামের ৩০০-র বেশি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ১০০০ জন কর্মী-সমর্থক তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিয়েছে। এই ঘটনায় জঙ্গলমহলের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
উন্নয়নের অভাবের অভিযোগ
যাঁরা দলবদল করেছেন, তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় কোনও কাজের সুযোগ নেই। বনজ সম্পদের উপর নির্ভর করেই সংসার চালাতে হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে এই গ্রামগুলি। এমনকি পানীয় জলের সমস্যাও প্রবল। নলকূপ থাকলেও বেশিরভাগই বিকল, ফলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের উপরই নির্ভর করতে হয় বাসিন্দাদের। একজন মহিলা যোগদানকারী স্পষ্ট বলেন, “স্কুলে শিক্ষক নেই, জল নেই, রাস্তাঘাট নেই, কোনও উন্নয়ন চোখে পড়েনি। তাই বাধ্য হয়েই দল পরিবর্তন করেছি।”
রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খুব শীঘ্রই জঙ্গলমহলে সভা করতে আসছেন। তার ঠিক আগেই এই ধরনের বড় দলবদল শাসক দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিজেপির (BJP) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় এই যোগদান। স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজীব মাহাত বলেন, “এটা শুধু শুরু। সামনে আরও বড় ভাঙন দেখা যাবে।” অন্যদিকে, সিপিআইএম কটাক্ষ করে জানিয়েছে, দুই দলের মধ্যে তফাৎ খুব বেশি নেই, শুধু ‘শো-রুম আলাদা’। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ।
ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া, এই চার জেলা নিয়ে গঠিত জঙ্গলমহল বরাবরই রাজনীতির দিক থেকে সংবেদনশীল। একসময় এই অঞ্চলেই নিজেদের শক্ত ভিত গড়ে তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৯২ সালে এই এলাকাতেই প্রথম পা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ ৪৫ দিনে DA, লক্ষীর ভান্ডারে ৩ হাজার ভাতা, ক্ষমতায় এলে কী কী করবে জানাল BJP
তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এই এলাকায় বিজেপির (BJP) প্রভাব বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয় গেরুয়া শিবির, যা তৃণমূলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন্ন সভা জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার। এই দলবদল সাময়িক না বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েকদিনেই।












