ইসলামপুরা পাল্টে কৃষ্ণনগর, বাবরি মসজিদ চক হল জৈন মন্দির! পাকিস্তানে বদলাল একাধিক স্থানের নাম

Published on:

Published on:

Names of several places changed in Lahore, Pakistan.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) আবার হল কী? ইসলামপুরা থেকে হল কৃষ্ণনগর, আবার  মৌলানা জাফর চকের নাম পরিবর্তন করে রাখা হল লক্ষ্মী চক, হঠাৎ বিভিন্ন রাস্তার এই নাম পরিবর্তন দেখে রীতিমতো ভিরমি খাওয়া জোগাড় প্রায় সকলের। পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে ফের ফিরছে পুরোনো ইতিহাসের ছাপ। বহু দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময় বদলে দেওয়া একাধিক হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম আবার পুনর্বহাল করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই লাহোরের অন্তত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, রাস্তা ও মোড়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে ‘ইসলামপুরা’-র নাম বদলে ফের ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা। প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা।

পাকিস্তানের (Pakistan) লাহোরে বদলাল একাধিক স্থানের নাম:

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দু’মাস ধরে এই নাম পরিবর্তনের কাজ চলছে। নতুন নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও বসানো হয়েছে। শুধু কৃষ্ণনগর বা জৈন মন্দির চক নয়, আরও বেশ কয়েকটি পরিচিত এলাকার পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যেমন— ‘সুন্নাতনগর’ হয়েছে ‘সন্নতনগর’, ‘মওলানা জাফর চক’ হয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘মুস্তাফাবাদ’-এর নাম ফের হয়েছে ‘ধরমপুরা’। এছাড়াও ‘স্যর আগা খান চক’-এর পরিবর্তে ‘ডেভিস রোড’, ‘ফাতিমা জিন্নাহ রোড’-এর বদলে ‘কুইন্স রোড’ এবং ‘বাগ-ই-জিন্নাহ’-এর বদলে ‘লরেন্স রোড’ নামও পুনর্বহাল করা হয়েছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের দাবি, সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে বহু পুরোনো নাম আজও প্রচলিত ছিল।

আরও পড়ুন: ভারতীয় রেলে এবার নতুন লোগো! মিলল মন্ত্রকের অনুমতি, কেন হচ্ছে পরিবর্তন?

সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে ‘কৃষ্ণনগর’ নাম ফিরিয়ে আনা নিয়ে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল কৃষ্ণনগর। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয়কে জোরদার করার সময়ে সেটির নাম বদলে রাখা হয় ইসলামপুরা। কয়েক দশক পর আবার পুরোনো নামেই ফিরল এলাকা। একইভাবে ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একসময় সেখানে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ওই মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম রাখা হয়েছিল ‘বাবরি মসজিদ চক’। এবার সেই নাম সরিয়ে ফের জৈন মন্দির চক নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এই পুরো উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ জানিয়েছেন, লাহোরের ঐতিহাসিক প্রাচীরঘেরা শহরের আটটি ফটকও পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় পর্যায়ে সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নাম পুনর্বহালের পরিকল্পনা রয়েছে।

Names of several places changed in Lahore, Pakistan.

আরও পড়ুন: প্রতিবাদের মাশুল? পাকিস্তানে Gen-Z ভোটারদের টার্গেট করে ভোটদানের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব, শুরু বিতর্ক

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, এটি পাকিস্তানের (Pakistan) বহু-সাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক কৌশলও থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বড় কট্টরপন্থী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে তীব্র বিরোধিতা করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, লাহোরে নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পাকিস্তানের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা।