বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় শক্তিবৃদ্ধি ঘটল শুক্রবার। ভারত তার তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন আইএনএস অরিদমনকে (INS Aridaman) নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে একটি পৃথক অনুষ্ঠানে অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরিকেও কমিশন করা হয়েছে। এই দুটি সংযোজন ভারতের সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
নৌবাহিনী পেল দেশের তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন INS অরিদমন (INS Aridaman):
যদিও আইএনএস অরিদমনের আনুষ্ঠানিক কার্যভার গ্রহণ নিয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনাথ সিং এক রহস্যময় বার্তায় এটিকে “শব্দ নয়, শক্তি” বলে উল্লেখ করেছেন। এই সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে প্রথমবারের মতো ভারতের হাতে সমুদ্রে একসঙ্গে তিনটি কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন থাকবে। এর আগে আইএনএস আরিহান্ত (২০১৬) এবং আইএনএস আরিঘাট (২০২৪) নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কালিয়া কোর্মা নয়, গোলমরিচের ঝাঁঝ মিশিয়ে এভাবে রাঁধুন কাতলা, রইল রেসিপি
আইএনএস অরিদমন ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে। পারমাণবিক ত্রয়ী বলতে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতাকে বোঝায়। এই ক্ষমতা অর্জনকারী দেশগুলির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ফ্রান্স-এর সঙ্গে ভারতও এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে আইএনএস অরিদমন তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। প্রায় ৭,০০০ টন ওজনের এই সাবমেরিন কে-১৫ এবং দীর্ঘ পাল্লার কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম, যা প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। উন্নত নকশা, জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আরও পড়ুন: TCS থেকে গুগল! মিলছে ৮০ লক্ষের প্যাকেজ, উদ্বুদ্ধ করবে বাঙালি যুবক অর্কের সাফল্যের কাহিনি
ভারত ইতিমধ্যেই আরও একটি বৃহৎ আকারের পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণকারী ডুবোজাহাজ (এসএসএন) কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে। নৌবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে সাবমেরিন তৈরির পাশাপাশি রাশিয়া থেকে একটি সাবমেরিন লিজ নেওয়ার কথাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপগুলি ভারতের প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।












