বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডিজিটাল মাধ্যম আজ শিশু-কিশোরদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও এর সঙ্গে বাড়ছে নানা ঝুঁকিও। অনলাইন হয়রানি, আসক্তি এবং বয়সের তুলনায় অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শে আসার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ চালু করল সরকার।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বন্ধ সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media)
সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন অনলাইন নিরাপত্তা নীতি। এই নীতির আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে এখন থেকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফলে নির্ধারিত বয়সের নিচে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যাবে না
এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি। নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষদের। এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে মালয়েশিয়ায়।
মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশনের (MCMC) নথি অনুযায়ী, সোমবার থেকে ‘১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট করতে পারবে না।’ নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু তথ্যের উপর নির্ভর করা যাবে না। প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা অন্য সরকারি নথির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু আপত্তিকর পোস্ট সরানোই নয়, বরং ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। নির্দেশিকা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলারের সমান।

আরও পড়ুন : চালু হয়েছে ‘যুবশক্তি’র পোর্টাল, কবে থেকে শুরু হবে বেকারভাতার জন্য আবেদন? জানুন
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ির ক্ষেত্রে এর আগে অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের আইন কার্যকর করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ইন্দোনেশিয়াও চলতি বছরের মার্চ মাসে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। প্রযুক্তির সুবিধা বজায় রেখেও কীভাবে কিশোর প্রজন্মকে অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়, ভবিষ্যতে সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।













