বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার (post poll violence) ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে সরব হয়েছে বিরোধী দল বিজেপি( BJP)। শুধু তাই নয়, হিংসার ঘটনায় রাজ্য সরকারের তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর (Jagdeep Dhankhar)। হাইকোর্টের সমালোচনার জেরেও অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। শেষ পর্যন্ত, হাইকোর্টের নির্দেশেই এরাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকরা (National Human Rights Commission)। বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন তারা। গতকাল সল্টলেকে সিআরপিএফ দপ্তরেও বসেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকরা। বহু মানুষ এসেছিলেন অভিযোগ জানাতে। কিন্তু এবার এই মানবাধিকার কমিশনকে ঘিরেই ঘটলো এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
https://twitter.com/BanglaHunt/status/1409860305581088769
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ যাদবপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আধিকারিকরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং বেশ কিছু বিজেপি কর্মীও। কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মঙ্গলবার দুপুর বেলায় মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকদের ঘিরে ধরে রীতিমতো বিক্ষোভ শুরু করেন যাদবপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি ভীষণই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী এই লাঠিচার্জের ফলে আহত হন অনেকেই এবং তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা। ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন বাঘাযতীন হাসপাতালে। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার সঠিক তথ্য তুলে ধরতেই বাংলায় এসেছেন কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকরা। কিন্তু তাদের ঘিরে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা এবং তৎপরবর্তীতে হিংসা রীতিমতো দুর্ভাগ্যজনক।
West Bengal: National Human Rights Commission (NHRC) team that visited Jadavpur to investigate post-poll violence was attacked.
"During probe, it has been found that more than 40 houses have been destroyed here. We are being attacked by goons," says an NHRC official. pic.twitter.com/iTUcBIZ2GU
— ANI (@ANI) June 29, 2021
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারও। বিক্ষোভের তদন্ত হবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই আচরণের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠি চালানো অত্যন্ত নিন্দাজনক ঘটনা। কে বা কারা বিক্ষোভ দেখাল তা খতিয়ে দেখা হবে।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এর আগেও নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। এবার ফের একবার বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর। আগামী দিনে ঘটনা এখন কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার।