বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞাত হামলাকারীদের রহস্যময় নেটওয়ার্ক। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলায় লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনা রাজধানী ইসলামাবাদে, যেখানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের এক কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ। স্থানীয় সূত্রে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ভারতের একের পর এক শত্রুর
সাজ্জাদ আহমেদ কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালে তিনি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসেন। শুক্রবার অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই পাকিস্তানের জঙ্গি মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:উপচে পড়ল সরকারি কোষাগার! গত এপ্রিলে রেকর্ড GST আদায়, চমকে দেবে পরিসংখ্যান
এর আগে গত কয়েকদিনে আরও একাধিক জঙ্গি নেতার মৃত্যু হয়েছে। জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডার সালমান আজহার একটি রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে লস্করের শীর্ষ নেতা শেখ ইউসুফ আফ্রিদির মৃত্যু হয়। এমনকি মার্চ মাসে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাই তাহির আজহারও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। পরপর এই ঘটনাগুলি জঙ্গি সংগঠনগুলির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানে এই ধরনের টার্গেটেড হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি এই রহস্যময় হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে বিস্ময়ের বিষয়, পাকিস্তান সরকার বা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এই ঘটনাগুলির কোনও স্পষ্ট তদন্ত বা ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে।

আরও পড়ুন:অবশেষে মিটবে সাধ? নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ট্রাম্পের নাম? মিলল আপডেট
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে (Pakistan) এখনও প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালানো। পাঞ্জাব, গিলগিট ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, যার পিছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের হাত ছিল বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে রহস্যময় এই হামলাগুলি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।












