বাড়বে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম! তেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি OPEC+-এর

Published on:

Published on:

OPEC+ prepares to increase oil production.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে,
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির গোষ্ঠী OPEC+ আবারও উৎপাদন (Oil Production) বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, জুন মাসের জন্য দৈনিক প্রায় ১,৮৮,০০০ ব্যারেল (bpd) উৎপাদন বৃদ্ধির একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিয়ে টানা তৃতীয় মাস গ্রুপটি সরবরাহ বৃদ্ধির ঘোষণা করবে।

তেল উৎপাদন (Oil Production) বাড়ানোর প্রস্তুতি OPEC+-এর:

মিলবে না তাৎক্ষণিক প্রভাব: এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হলেও আপাতত এর প্রভাব সীমিত থাকবে। এর কারণ হল আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল চলাচল স্বাভাবিক না হলে, অতিরিক্ত উৎপাদনের সুফল বাজারে পৌঁছাবে না। এদিকে, রবিবারের বৈঠকে সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও ওমানসহ ৭ টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও OPEC+ তার উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশলে অটল রয়েছে।

OPEC+ prepares to increase oil production.

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সরবরাহে প্রভাব পড়েছে: জানিয়ে রাখি যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ এবং তার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সৌদি আরব থেকে শুরু করে ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলির রফতানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের আগে এই দেশগুলিরই উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা ছিল। এদিকে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং জেট ফুয়েলের ঘাটতি নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে উদ্বেগ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: বাঁচবে সময়! টোল প্লাজায় লাগু MLFF সিস্টেম, কীভাবে কাটবে ট্যাক্স?

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে: উল্লেখ্য যে, সামগ্রিক বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, হরমুজ পুনরায় চালু হলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। সুতরাং, বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি প্রতীকী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারতের ডিফেন্স হাব হতে চলেছে এই রাজ্য! ফাইটার জেট প্রকল্পের জন্য ১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের অনুমান

উৎপাদন ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে: পূর্ববর্তী রিপোর্ট অনুসারে, মার্চ মাসে OPEC+ দেশগুলির মোট উৎপাদন কমে দৈনিক ৩৫.০৬ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছিল। সবচেয়ে বড় পতন রেকর্ড করা হয়েছে সৌদি আরব ও ইরাকে। তবে, সামগ্রিকভাবে, OPEC+ এর এহেন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল বাজারকে এই সঙ্কেত দেওয়া যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সরবরাহ বাড়ানো হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব এখনও দেখা যাবে না।