ভারতের ডিফেন্স হাব হতে চলেছে এই রাজ্য! ফাইটার জেট প্রকল্পের জন্য ১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের অনুমান

Published on:

Published on:

This state is going to become defence hub of India.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামরিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারত (India)। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলি অন্ধ্রপ্রদেশের পুত্তাপার্থিতে তৈরি করা হবে। শুধু তাই নয়, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য স্টেট ক্যাবিনেট ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন তথা DRDO-কে ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। ওই ফেসিলিটি থেকে আনুমানিক ১৪০ টি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AFCA) তৈরি করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্পে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার অনুমান করা হচ্ছে।

ভারতের (India) ডিফেন্স হাব হতে চলেছে এই রাজ্য:

জানিয়ে রাখি যে, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুর ওই রাজ্যে একটি AMCA প্রোডাকশন ইউনিট স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে আবেদন জানানোর এক বছর পর এই সিদ্ধান্তটি সামনে এসেছে। মিডিয়া রিপোর্টে ২০২৫-এর ২৪ মে এন. চন্দ্রবাবু নাইডুর এই আবেদনের খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়। এদিকে, এর আগে সূত্র অনুসারে জানা গিয়েছিল, AMCA-এর সিস্টেম ডিজাইন, টেস্টিং এবং মডিউল অ্যাসেম্বলি DRDO-র অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA)-র কেন্দ্রে সম্পন্ন করা হবে।

This state is going to become defence hub of India.

বেঙ্গালুরু নিকটে: উল্লেখ্য যে, এই মডিউল বেঙ্গালুরুর নিকটবর্তী শ্রী সত্য সাই জেলায়, কর্ণাটক সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পুত্তাপার্থিতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই প্রোটোটাইপের চূড়ান্ত অ্যাসেম্বলি এবং ভূমিতে টেস্টিং সম্পন্ন হবে। রাজ্য সরকার একটি ফ্লাইট টেস্টিং কমপ্লেক্স, বিজ্ঞানীদের জন্য একটি হাউসিং টাউনশিপ এবং একটি প্রোডাকশন ফেসিলিটির জন্য বিনামূল্যে জমি প্রদান করেছে। এই ফেসিলিটি ADA-র নিজস্ব প্রোডাকশন পার্টনার তৈরি করবে। এদিকে, AMCA-এর ডেভেলপমেন্ট ও উৎপাদনের জন্য টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, এলঅ্যান্ডটি এবং ভারত ফোর্জ, এই ৩ টি সংস্থাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, সহজ এয়ারস্ট্রিপ সুবিধা এবং সুসংহত আকাশসীমা সমন্বয়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের পুত্তাপার্থি AMCA ইউনিট পাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চ আধিকারিক ET-কে জানিয়েছেন যে, AMCA কেন্দ্রটির জন্য একটি ডেডিকেটেড ফ্লাইট টেস্টিং রেঞ্জ প্রয়োজন। ফ্লাইট পথের কাছাকাছি একটি অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। মূলত, একটি ডেডিকেটেড ফ্লাইট টেস্ট রেঞ্জ ডেভেলপমেন্টের সময় কমায় এবং কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন: নিলামে পেলেন ৫ গুণ বেশি অর্থ! IPL-এর মাঝেই এই টিমে এন্ট্রি অর্জুন তেন্ডুলকারের

পুট্টাপার্থি কেন উপযুক্ত: ওই আধিকারিক আর ওও জানিয়েছেন, রেঞ্জটি ADA-র কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন ছিল। যার সদর দফতর বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত। বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরের কাজের চাপের কারণে সেখানে এটি নির্মাণ করা অসম্ভব ছিল। এই কারণেই DRDO বেঙ্গালুরুর কাছাকাছি জমি খুঁজছিল। তিনি আরও বলেন যে, ADA-র একটি দল জমিটি পরিদর্শন করে দেখেছে যে এটি সমস্ত শর্ত পূরণ করে। এছাড়াও, পুট্টাপার্থিতে কোনও ব্যস্ত বিমানবন্দর নেই এবং এটি ADA সদর দফতরেরও কাছাকাছি। অন্য একজন জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি একটি শক্তিশালী সহায়ক শিল্পকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার বাড়ছে চিন্তা! IPL-এর পরেও মাঠে ফিরতে পারবেন না এই দুই তারকা খেলোয়াড়

গত বছর অন্ধ্রপ্রদেশে AMCA ফেসিলিটি স্থাপনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুর উদ্যোগটি তীব্র বাদানুবাদের জন্ম দিয়েছিল। কারণ কংগ্রেস-শাসিত কর্ণাটক এটিকে বেঙ্গালুরু থেকে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড তথা HAL-এর এয়ারোস্পেস মানুফ্যাকচারিং শিল্প সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছিল। তবে, এবার AMCA উৎপাদন ইউনিটটি অন্ধ্রপ্রদেশেই হতে চলেছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা HAL পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দৌড় থেকেও ছিটকে গেছে।