বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করে বিজেপি সরকার। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ এবং পুশব্যাক অভিযানের পর এবার রেশন (Ration Cards) ব্যবস্থার ‘শুদ্ধিকরণে’ নামল রেখা গুপ্ত সরকার। সেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই বাতিল করা হয়েছে ৭ লক্ষেরও বেশি রেশন কার্ড। দিল্লি সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বহু অযোগ্য ব্যক্তি এবং মৃত মানুষের নাম ব্যবহার করে বেআইনিভাবে রেশন পরিষেবার সুবিধা নেওয়া হচ্ছিল।
বেআইনিভাবে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে বাতিল ৭ লক্ষেরও বেশি রেশন কার্ড (Ration Cards):
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, নতুন করে রেশন কার্ড ইস্যু করার আগে পুরনো কার্ডগুলির পূর্ণাঙ্গ অডিট করা হয়েছে। সেই অডিটে মোট ৭ লক্ষ ৭২ হাজার রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর মধ্যে ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ১২৩ জন এমন ব্যক্তি রয়েছেন যাঁদের পারিবারিক আয় সরকার নির্ধারিত সীমার অনেক উপরে। এছাড়াও প্রায় ৯৫ হাজার গ্রাহক এক বছরের বেশি সময় ধরে রেশন তোলেননি। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, ৬ হাজারের বেশি মৃত ব্যক্তির নামেও রেশন কার্ড সক্রিয় ছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ দিনে তৃতীয়বার! ফের দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের, মূল্যবৃদ্ধি CNG-রও
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের নীচে থাকা পরিবারগুলিই রেশন পরিষেবার সুবিধা পেতে পারেন। দিল্লিতে এতদিন বার্ষিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নীচে আয় থাকা পরিবারগুলি রেশন পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু অডিটে দেখা যায়, বহু উচ্চআয়ের পরিবারও বেআইনিভাবে এই সুবিধা নিচ্ছিল। সেই কারণেই তাদের রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আয়ের ঊর্ধ্বসীমাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় থাকা পরিবারও রেশন পরিষেবার জন্য আবেদন করতে পারবে।
দিল্লিতে গত ১৩ বছর ধরে নতুন রেশন কার্ড ইস্যু কার্যত বন্ধ ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করতে চলেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাতিল হওয়া সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি কার্ডের জায়গায় নতুন আবেদনকারীদের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবার নতুন করে রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষদের কাছে খাদ্যসুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা আরও সঠিকভাবে পৌঁছবে।

আরও পড়ুন: পড়ুয়াদের চাপ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত, বদলে যাচ্ছে বাংলার স্কুলের নিয়মকানুন
তবে বিরোধীদের একাংশ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, ‘শুদ্ধিকরণ’-এর নামে সরকার আসলে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে নিশানা করছে। যদিও দিল্লি সরকার সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, রেশন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতেই এই অডিট এবং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও ডিজিটাল যাচাই এবং নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে রেশন (Ration Cards) ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নির্ভুল করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।













