বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে অস্থির পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নেওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি (Fuel Price Rise) বাজারে। পেট্রোল ও ডিজেলের পর এবার দাম বাড়ল সিএনজি বা কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাসেরও। দিল্লি-এনসিআর এলাকায় প্রতি কেজি সিএনজির দাম এক টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে এখন প্রতি কেজি সিএনজির দাম দাঁড়িয়েছে ৮১ টাকা ৯ পয়সায়। নয়ডা ও গাজিয়াবাদে দাম বেড়ে হয়েছে ৮৯ টাকা ৭০ পয়সা। রাজস্থানের আজমেরে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ৪৪ পয়সা প্রতি কেজি দরে সিএনজি বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৯ দিনের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো মূল্যবৃদ্ধি।
১০ দিনে পরপর ৩ বার দাম বাড়ল জ্বালানির (Fuel Price Rise):
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সঙ্কট। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তেল ও গ্যাস পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। তার জেরেই ভারত-সহ একাধিক দেশে জ্বালানি আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর চাপ বেড়েছে। সেই কারণেই একের পর এক জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ছাতা নিয়ে রেডি থাকুন! শনিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ৫ জেলায়: আবহাওয়ার খবর
সিএনজির দাম বাড়ার ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে পরিবহণ ব্যবস্থায়। বর্তমানে বহু অটো, ট্যাক্সি এবং শহুরে বাস সিএনজিতে চলে। ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শহরে অটো ও ট্যাক্সি সংগঠনগুলি ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর এর সরাসরি চাপ পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু যাতায়াত নয়, পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে।
এদিকে শনিবার, ২৩ মে থেকে নতুন করে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও কার্যকর হয়েছে। পেট্রোলে লিটার প্রতি ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলে ৯১ পয়সা করে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে পেট্রোলের দাম হয়েছে লিটার প্রতি ৯৯ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯২ টাকা ৪৯ পয়সা। কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকা ৫৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৬ টাকা ৪ পয়সা। মুম্বইতেও পেট্রোল ও ডিজেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
গত ১৫ মে প্রথম দফায় লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা করে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে আবার প্রায় ৯০ পয়সা বৃদ্ধি পায়। এবার নতুন করে আরও বৃদ্ধি হওয়ায় ১০ দিনের মধ্যে মোট প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেল জ্বালানির। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কট গভীর হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না বলেই সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন:‘৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া মেটাতে হবে’, DA মামলায় রাজ্যকে কড়া নির্দেশ, ডেডলাইন আদালতের
অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলির দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনে এলপিজি-সহ অন্যান্য জ্বালানির দামও (Fuel Price Rise) আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে শুরু করে বাজারের প্রতিটি স্তরে।













