বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত (India) সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্তরে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের আবেদনের ভিত্তিতে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের পিস প্যালেসে অবস্থিত কোর্ট অফ আরবিট্রেশন আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি এই সংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য করে এবং দিল্লির কাছ থেকে জবাব তলব করে। তবে সোমবার ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকার করে না এবং সেই কারণে শুনানিতে অংশ নেবে না বা কোনও নথি জমা দেবে না।
ভারতের (India) সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করা নিয়ে নালিশ করতে গিয়ে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের
নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান যে অভিযোগ দায়ের করেছে, তা ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানান, কোর্ট অফ আরবিট্রেশন অবৈধভাবে গঠিত এবং নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সমান্তরাল কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভারতের মতে, যেহেতু তারা এই আদালতের বৈধতা মানে না এবং বর্তমানে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিজেই স্থগিত রয়েছে, তাই এই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ওই আধিকারিকের কথায়, আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান আসলে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে।
আরও পড়ুন:iPhone-এর থেকেও কম দামে মিলছে এই দুর্দান্ত ইলেকট্রিক স্কুটার! কেনার জন্য হুড়োহুড়ি ক্রেতাদের
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ করেছে ভারত সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। ভারতের এই পদক্ষেপকে ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ এবং সেই যুক্তিতেই তারা আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ জানায়। তবে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভারতের সার্বভৌম অধিকারের মধ্যেই পড়ে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধুর পূর্ব দিকের তিন উপনদী— বিপাশা, শতদ্রু ও ইরাবতীর জল ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যদিকে, সিন্ধু নদ ও তার উপনদী বিতস্তা এবং চন্দ্রভাগার জলের উপর পাকিস্তানের অধিকার স্বীকৃত হয়। এই নদীগুলি ভারতের ভূখণ্ড দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন: সিগন্যাল অমান্য না করেও পেয়েছেন e-Challan? বাড়িতে বসেই কীভাবে জানাবেন অভিযোগ?
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দুই দেশই নিজেদের প্রয়োজনে জল ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না। ভারতের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে জলসেচ ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ, পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি কার্যক্রম সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জলের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত-পাক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।












