বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তথাকথিত ‘ইসলামিক ন্যাটো’ (Islamic NATO)। এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানকে (Iran) পাকিস্তান (Pakistan), তুরস্ক (Turkey) এবং সৌদি আরব (Saudi Arabia) আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানি সংসদের সংবাদ সংস্থা ‘খানে মেল্লাত’-এর প্রধান মেহদি রহিমি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরানের কাছে পৌঁছনো প্রস্তাবটি এখন পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে, তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদিও এই আমন্ত্রণের বিষয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক বা ইরান সরকারের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে জোটে ইরানের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে জল্পনা থাকলেও বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
‘ইসলামিক ন্যাটো’ (Islamic NATO)-তে ইরানকে জানানো হল আমন্ত্রণ:
গত ৭ অগস্ট মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই এই জোট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির মূল বক্তব্য, সদস্য দেশগুলির কোনও একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। এর পর থেকেই জোটে আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে। মিশরের নাম যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনই বাংলাদেশও এই ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে (Islamic NATO)।
আরও পড়ুন: বাড়িতে বসেই আধারের ছবি বদলানো যায়? জেনে নিন আসল নিয়ম…
এই জোটের উদ্দেশ্য নিয়েও অবশ্য মতভেদ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, এর নেপথ্যে আমেরিকার কৌশল থাকতে পারে এবং ইরানের উপর চাপ বাড়াতেই এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। আবার অন্য একটি অংশের মতে, প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলি নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাইছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অবশ্য এর আগে জোটটি নিয়ে সরাসরি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাননি। গত ১০ অগস্ট তিনি বলেছিলেন, আঞ্চলিক দেশগুলির নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর মন্তব্যে বিষয়টি নিয়ে তেহরানের তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছিল।
তবে, ইরান এই জোটে যোগ দিলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। ইয়েমেন-সহ একাধিক সংঘাতে তারা বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করেছে। যদিও ২০২৩ সালে চিনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াধের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, সাম্প্রতিক পশ্চিম এশীয় সংঘাত পরিস্থিতিকে ফের জটিল করেছে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোনও সামরিক জোটে ইরানের প্রবেশ নিঃসন্দেহে একটি বড় কূটনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে।

আরও পড়ুন: কর্মী যত, বেতন যাচ্ছে তার চেয়েও বেশি! তৃণমূল আমলের নিয়োগ খতিয়ে দেখতে KMC-তে ৫ সদস্যের কমিটি
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামনে এখন একাধিক কৌশলগত প্রশ্ন। একদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ এবং পশ্চিম এশিয়ার জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। তেহরান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে এই জোটের ভবিষ্যৎ চরিত্র। ইরান যোগ দিলে জোটটির সামরিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-সৌদি সম্পর্ক, আমেরিকার ভূমিকা এবং ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না (Islamic NATO)।













