বাংলাহান্ট ডেস্ক: একদিকে প্রতিবেশী ইরান অন্যদিকে গৃহযুদ্ধ, সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টের দাবি, ইজরায়েল-আমেরিকা-ইরানের সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই হাজার ছুঁইছুঁই। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে গোটা অঞ্চলে জুড়েই। একই সময়ে সীমান্তবর্তী পাকিস্তানও বহু ফ্রন্টে সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে, ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে চাপে পাকিস্তান (Pakistan)
একদিকে যেমন আফগান সীমান্তে পাক-তালিবান সংঘাতে উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে বালোচিস্তানেও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। দীর্ঘদিন ধরেই বালোচিস্তানে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালাচ্ছে বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সম্প্রতি তারা দাবি করেছে, তাদের হাতে বন্দি থাকা ৭জন পাকিস্তানি সেনাকে তারা হত্যা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়, ওই ব্যক্তিরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। যদিও পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহেও উপচে পড়ল সরকারের কোষাগার! ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বিপুল বৃদ্ধি
বিএলএর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা মোট ১৭ জন পাকিস্তানি সেনাকে আটক করেছিল। পরে তাদের মধ্যে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মতে, ওই ১০ জন জন্মসূত্রে বালোচ সম্প্রদায়ের ছিলেন। বাকি ৭ জনকে তারা নিজেদের তথাকথিত ‘বালোচ ন্যাশনাল কোর্টে’ হাজির করে। সেখানে বিচারের নামে ওই ৭ সেনাকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি। তবে পাকিস্তান সরকার এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
এই আবহেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পাঞ্চগুড় এলাকায় দু’টি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায়। স্থানীয় সূত্রের খবর পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাকিস্তান ফ্রন্টিয়ার কর্পস-এর একটি ক্যাম্পের কাছেই এই দেহগুলি পাওয়া যায়। মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় মেলে ১৭ বছরের ছাত্র ইয়াহায়া বালোচ হিসেবে, যিনি খুদাবাদান এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন বালোচ ইকাজেতি কমিটি অভিযোগ করেছে, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই কিশোরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

আরও পড়ুন: ধুঁকছে চিনের অর্থনীতি! পরিস্থিতি সামলাতে নয়া পদক্ষেপ পড়শি দেশের
আরও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে আরেক ইয়াহায়া বালোচের মৃত্যুকে ঘিরে। সংগঠনের দাবি, একই নামের আরেক যুবককে গত বছরের ১ অক্টোবর ছিটকান এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং চলতি মাসের ৩ মার্চ তারও মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বালোচিস্তানে গুম ও হত্যার ঘটনা কি নতুন করে বাড়ছে? একই নামের দুই ব্যক্তির পরপর মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এই ঘটনাগুলি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মানবাধিকার মহলেও।












