বাংলাহান্ট ডেস্ক: লালগ্রহে (Mars) কি সত্যিই লুকিয়ে রয়েছে অমূল্য রত্ন? এমনই এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে পার্সিভ্যান্স রোভার। সূত্রের খবর, মঙ্গলের মাটিতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে উজ্জ্বল আভাযুক্ত কিছু নুড়িপাথর খুঁজে পেয়েছে এই রোভার, যার মধ্যে মিলেছে কোরান্ডাম নামক খনিজের উপস্থিতি। এই কোরান্ডামই পৃথিবীতে চুনি ও নীলা তৈরির মূল উপাদান হিসেবে পরিচিত, ফলে আবিষ্কার ঘিরে বিজ্ঞানমহলে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলের (Mars) মাটিতে লুকিয়ে রয়েছে বহুমূল্য রত্ন?
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো এই রোভারটি বর্তমানে মঙ্গলের পৃষ্ঠে সক্রিয়ভাবে গবেষণা চালাচ্ছে। নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক অ্যান অলীলা এবং তাঁর সহকর্মীরা এই আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত। জানা গিয়েছে, তাঁরা ‘হ্যাম্পডেন রিভার’ নামে একটি পাথর পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রথম এই কোরান্ডামের সন্ধান পান, যা পরবর্তীতে আরও কয়েকটি স্থানে মিলেছে।
এই আবিষ্কারের আরও একটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা হল রোভারের সুপারক্যাম প্রযুক্তি। এই ক্যামেরায় বিশেষ ধরনের একটি লেজার ব্যবহৃত হয়, যা পাথরের উপরিভাগে আঘাত করে বা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। আর এই পরীক্ষার ফলাফল গবেষণাগারে পরীক্ষা করা চুনির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, সেখানে কোরান্ডাম জাতীয় খনিজ উপস্থিত রয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে জেজেরো গহ্বরের প্রান্ত ধরে এগোতে গিয়ে ‘কফি কোভ’ এবং ‘স্মিথস হারবার’ নামের আরও দুটি স্থানে একই ধরনের খনিজের সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ১৬ মার্চ টেক্সাসে আয়োজিত লুনার এন্ড প্লানেটারি কনফারেন্সে এই তথ্যগুলি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি মঙ্গলের ভূতত্ত্ব সম্পর্কে নতুন এক দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: ফের বদলাচ্ছে আবহাওয়া! ঝেঁপে বৃষ্টি নামবে দক্ষিণবঙ্গে, কোথায় কোথায় সতর্কতা জারি?
তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলে এই ধরনের খনিজের সৃষ্টি পৃথিবীর মতো নয়। পৃথিবীতে যেখানে টেকটোনিক প্লেটের চাপ ও তাপ থেকে চুনি তৈরি হয়, সেখানে মঙ্গলে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ধূলিকণার পরিবর্তনের ফলেই এমন খনিজ গঠিত হতে পারে। লুনার এন্ড প্ল্যানিটারি ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যালান ট্রেম্যান জানিয়েছেন, কোরান্ডামের কণাগুলি অত্যন্ত ছোট হওয়ায় সেগুলি চুনি না নীলা তা নির্দিষ্ট করে বলা এখনও সম্ভব নয়। তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন পথ দেখাবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।












