বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ঠিক আগে রাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ রাজীব কুমার (Rajeev Kumar) অভিযোগ করেছেন, ৫০০-র বেশি মানুষকে বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু অভিযোগই নয়, তিনি বলেছেন যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের আগে এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।
কী অভিযোগ রাজীব কুমারের (Rajeev Kumar)?
একসময় রাজ্যের পুলিশপ্রধান ছিলেন রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। এখন তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। রাজনীতিতে আসার পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য রাখলেন, তাও আবার ভোটের ঠিক আগের দিন। তিনি বলেন, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কথায় ৫০০-র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু রাজীব কুমারের দাবি, এইভাবে গ্রেপ্তার করা আইনসিদ্ধ নয়। পর্যবেক্ষকদের কাজ শুধু পরিস্থিতি দেখা, তারা সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারে না।
সিইও-র দপ্তরে অভিযোগ
এই বিষয়টি নিয়ে রাজীব কুমার (Rajeev Kumar) সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের দুই প্রার্থী শশী পাঁজা ও শুভাশিস চক্রবর্তী। সেখানে গিয়ে তাঁরা পুরো বিষয়টি জানান। রাজীবের দাবি, সিইও-ও নাকি বলেছেন পর্যবেক্ষকদের এই ধরনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। রাজীব কুমার স্পষ্ট করে বলেন, যে আধিকারিকরা এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের নাম ধরে চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক আশ্রয়ে বাঁচতে পারবেন না, সবাইকে জবাব দিতে হবে।
‘ভোটের পর সব ভুলে যাওয়া হবে না’
রাজীব (Rajeev Kumar) আরও বলেন, আগে যেমন গ্রেপ্তার করে পরে সব ভুলে যাওয়া হত, এবার তা হবে না। তিনি বলেন, কেউ কোনও সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারবেন না। প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে দায় নিতে হবে। এরপর রাজীব প্রশ্ন তোলেন, পর্যবেক্ষকরা কি কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আলাদা করে দেখা করতে পারেন? যদিও এই বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশাসনের কিছু অংশকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কারা কী করছে সব নজরে রাখা হচ্ছে। তৃণমূলের আশঙ্কা, প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এই নিয়ে হাই কোর্টে মামলাও হয়েছে। বুধবার সেই মামলার শুনানি শেষে আদালত রায় পরে দেবে বলে জানায়।
কমিশনের পদক্ষেপে নতুন বিতর্ক
ভোটের আগে একাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিককে সরিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন লোকও বসানো হয়েছে সেই জায়গায়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীও চিঠি লিখে বলেছেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই বদলি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগেই ‘ড্রাই ডে’! কমিশন বলছে নির্দেশই দেয়নি, তাহলে বন্ধ করল কে?
দ্বিতীয় দফা ভোটের আর কয়েকদিন বাকি। তার আগে রেপ্টার, প্রশাসনিক বদলি আর রাজনৈতিক অভিযোগ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও গরম হচ্ছে। রাজীব কুমারের (Rajeev Kumar) এই মন্তব্যে সেই উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ইস্যু কতদূর গড়ায়।












