বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল, বাড়িতে ফ্রিজ বা দু’চাকার গাড়ি থাকলে আর রেশনের (Ration) সুবিধা পাওয়া যাবে না। এই নিয়ে বহু উপভোক্তার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে পুরুলিয়া সফরে গিয়ে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রেশন পাওয়ার নতুন যোগ্যতা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই সরকার এ বিষয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করবে বলেও তিনি জানান।
রেশন (Ration) নিয়ে গুজব, কী বললেন খাদ্যমন্ত্রীর?
শনিবার জঙ্গলমহলের পুরুলিয়ায় হঠাৎ পরিদর্শনে যান অশোক কীর্তনীয়া। সেখানে তিনি বলেন, কারা গণবণ্টন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই বিষয়ে দফতর খুব শীঘ্রই একটি এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রকাশ করবে। তাই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ধরনের কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলি সম্পূর্ণ গুজব এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন খাদ্যমন্ত্রী।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, যেভাবে অনেক সচ্ছল মানুষ স্বেচ্ছায় রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি ছেড়ে দিয়েছেন, তেমনভাবেই সরকারি চাকরি করেন এমন মানুষদেরও দেশের ও রাজ্যের স্বার্থে রেশন (Ration) ব্যবস্থার সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
এদিন পুরুলিয়া সফরে খাদ্যশস্যের গুণগত মানও খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। পুরুলিয়া শহরে পুরুলিয়া-১ ব্লকের জন্য খাদ্য পরিবেশক পি ডি ঝুনঝুনওয়ালার গুদামে গিয়ে রেশনের (Ration) চাল দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সঙ্গে সঙ্গেই ওই চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সেই চাল বিতরণ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন মন্ত্রী আরও জানান, আগের সরকারের আমলে ধান প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে যাঁরা অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনা এবং বর্ধমানে খাদ্যশস্যের মান খতিয়ে দেখার পর শুক্রবার রাতে তিনি পুরুলিয়ায় পৌঁছন। রবিবার তাঁর বীরভূম সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে।
গুদাম পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামেও যান খাদ্যমন্ত্রী। কুড়মি ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন (Ration) পাওয়া চাল ও গম দেখেন এবং উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বেশিরভাগ মানুষই জানান, এখন যে চাল ও গম দেওয়া হচ্ছে তার মান আগের তুলনায় অনেক ভালো। পুঞ্চা ব্লকের একটি গ্রামে কাশীনাথ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক উপভোক্তা বলেন, আগে যে আটা দেওয়া হত তা খাওয়া যেত না। অনেক সময় পশুপাখিকে খাওয়াতে হত। এখন চাল ও গমের মান অনেক ভালো হয়েছে।
পরে পাশের একটি আদিবাসী গ্রামেও যান মন্ত্রী। সেখানে ফুলমনি মান্ডি, বাবুলাল হেমব্রম ও চৌধুরি মুর্মু-সহ একাধিক উপভোক্তার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরাও জানান, বর্তমানে যে চাল ও গম দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ নেই।

আরও পড়ুনঃ ‘মিড-ডে-মিলের কোনো রাঁধুনির কাজ যাবে না’, ইসকনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
দিনভর একাধিক রেশন (Ration) ডিলারের দোকান পরিদর্শন করলেও বড় ধরনের কোনও অনিয়ম তাঁর নজরে আসেনি। তবে পুরুলিয়া শহরের ওই গুদামে চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেশন ডিলারদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিম্নমানের খাদ্যশস্য গ্রহণ করবেন না। প্রয়োজন হলে তা ফেরত পাঠিয়ে দেবেন।













