বাংলা হান্ট ডেস্ক: সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের (Crude Oil) ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যার ফলে প্রভাবিত হয়েছে ভারতও। যদিও, এই আবহেই ভারতের জন্য একটি স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত মে মাসে সস্তায় অপরিশোধিত তেল ক্রয় বাড়িয়েছে। যা ভবিষ্যতে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর চাপ কমাতে পারে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভেনেজুয়েলা এখন ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিসংখ্যানে প্রথম স্থানে রয়েছে রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
ভেনেজুয়েলা থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল (Crude Oil) ক্রয়:
রিপোর্ট অনুসারে, ভারত মে মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে দৈনিক প্রায় ৪১৭,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ক্রয় করছে। গত এপ্রিলে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২৮৩,০০০ ব্যারেল। অর্থাৎ, পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে গত মাসের তুলনায় তেল আমদানিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল কেবল সস্তাই নয়, বরং, ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্যও লাভজনক। গুজরাটে অবস্থিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের উন্নত শোধনাগার এই তেল দক্ষতার সঙ্গে প্রসেস করতে পারে।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ করেছে ক্রয় বৃদ্ধি: উল্লেখ্য যে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানিগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে ভেনিজুয়েলার তেল ক্রয় করছে। এর প্রধান কারণ হল কম দাম। মূলত, ভেনেজুয়েলার হেভি-গ্রেড ক্রুড সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশের তেলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা। ফলস্বরূপ, ভারতীয় কোম্পানিগুলি খরচ কমানোর জন্য এই বিকল্পটির ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল! অথচ, প্রিয় দলের সাফল্যের সাক্ষী হতে পারলেন না রাহুল, আক্ষেপ অনুরাগীদের
সৌদি আরব এবং আমেরিকা কেন পিছিয়ে: জানিয়ে রাখি যে, ইরান যুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবের তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই কারণেই ভারত সেখান থেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। মে মাসে সৌদি আরব থেকে ভারতের তেল সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশগুলির তালিকায় আমেরিকাও পিছিয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: বিনামূল্যে আনলিমিটেড কলিং সহ ২ জিবি ডেটা ও SMS! দুর্ধর্ষ অফার BSNL-এর, মিস করবেন না সুযোগ
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কি কমবে: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ভারত যদি এই কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর চাপ কমতে পারে। তবে, সামগ্রিক বিষয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনও একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।













