বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাটের আহমেদাবাদের বাসিন্দা রোশনি যতীন মিস্ত্রি প্রমাণ করে দিলেন, একটি ছোট্ট শখ থেকেও কিভাবে একটি সফল (Success Story) ব্যবসা দাঁড় করানো যায়। ছোটবেলায় মায়ের শাড়ি কেটে পুতুলের পোশাক বানানোই ছিল তাঁর নেশা। সেই সৃজনশীলতাই একদিন তাঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে নিয়ে যাবে, তা তিনি তখন কল্পনাও করেননি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই শখই রূপ নেয় একটি সফল ব্র্যান্ডে, যার নাম ‘ক্যাটস এন্ড বোস’।
রোশনি মিস্ত্রির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
২০১৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই, কলেজের প্রথম বর্ষে পড়াকালীন রোশনি মাত্র ২,০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করেন। সেই সময় কাপড়ের আঠা ও প্যাকেজিংয়ের সামান্য খরচ ছাড়া তাঁর আর কোনও বড় বিনিয়োগ ছিল না এই ব্যবসায়। স্থানীয় দর্জিদের ফেলে দেওয়া কাপড় সংগ্রহ করেই তিনি তৈরি করতেন হাতে তৈরি হেয়ার বো। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার এতটা চল না থাকলেও তিনি ফেসবুক এবং ছোটখাটো অফলাইন পপ-আপের মাধ্যমে নিজের পণ্য বিক্রি শুরু করেন। ২০১৮ সালে ব্যবসাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন তিনি এবং ধীরে ধীরে যা একটি সুপরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: আর বাড়তি টাকা নয়! বিমানে নিজের পছন্দের সিট বাছাইয়ে নতুন নিয়ম জারি করল মোদী সরকার
পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক রোশনি পড়াশোনা শেষ করার পর বুঝতে পারেন, প্রচলিত চাকরি তাঁর জন্য নয়। তাই তিনি নিজের সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান ব্যবসার দিকেই দেন। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তিনি ১৫,০০০-এরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যান। ২০২১ সালে নিজের ওয়েবসাইট চালু করার পর তাঁর ব্যবসা আরও পেশাদার রূপ পায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়।
বর্তমানে তাঁর এই উদ্যোগে আরও পাঁচজন মহিলা কাজ করেন, যারা প্রত্যেকেই যত্ন সহকারে হাতে তৈরি পণ্য প্রস্তুত করে থাকেন। ক্লিপ, হেডব্যান্ড, ক্ল ক্লিপ, হেয়ার টাই বো এবং বো চার্ম—বিভিন্ন ধরনের চুলের সাজসজ্জা তৈরি করে এই ব্র্যান্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ও রিলসের মাধ্যমে রোশনির ফলোয়ার সংখ্যা এখন ১.৯ লক্ষ ছাড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁর প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রাহক অর্গানিক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আসেন, যা এই ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা যে কতটা তা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন: গ্যাস সঙ্কটে মেনু থেকে উধাও সব্জি-মাংসের পদ, কাঠের উনুনে ফিরছেন পাইস হোটেলের মালিকরা
আর্থিক ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মূলধন ছিল প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬২ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশেও এই ব্র্যান্ডের উপস্থিতি রয়েছে। প্রায় ২৮ শতাংশ পুনরাবৃত্ত গ্রাহক নিয়ে রোশনি ২০২৬ সালের মধ্যে ৮০ লক্ষ টাকার বার্ষিক আয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন। পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং এবং প্রিমিয়াম গুণমানই তাঁর সাফল্যের মূল মন্ত্র।












