বাংলাহান্ট ডেস্ক: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং মারণ রোগ, দুটি বড় প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সফলতার (Success Story) নজির গড়লেন ছত্তিশগড়ের যুবক সঞ্জয় ডাহারিয়া। দীর্ঘদিন ধরে আংশিক দৃষ্টিহীনতা ও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছেন। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতাই তাঁকে কোনও ভাবেই দমাতে পারেনি। সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা দেশে ৯৪৬ তম স্থান পেয়ে পাশ করেন মহাসমুন্দের বছর ৩৮-এর এই যুবক। কঠিন এই পরীক্ষায় তাঁর সাফল্য এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
সঞ্জয়ের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলার বেলটুকরি নামে প্রত্যন্ত এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সঞ্জয়। কৃষক পরিবারে জন্ম হলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বেশ আগ্রহী ছিলেন তিনি। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাও গ্রামেরই এক সরকারি স্কুল থেকেই হয়। পরে পঞ্চম শ্রেণিতে রায়পুরের মানায় অবস্থিত জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। আর সেই সুযোগই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: হঠাৎ প্যান কার্ডের নিয়ম বদল! স্বস্তি নাকি নতুন সমস্যায় পড়বেন আপনি? জানুন বিস্তারিত
এরপর কলেজের পড়াশোনা শেষ করে একটি ব্যাঙ্কে চাকরি শুরু করেন সঞ্জয়। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় কর্মরত ছিলেন। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের একটি শাখায় কাজ করার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। তবে প্রথম থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল তিনি দেশের সেবা করবেন। তাই সেই চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি। ঠিক সেই সময়ই তাঁর জীবনে নেমে আসে বড় ধাক্কা।
২০১২ সালে লালাগ্রন্থিতে ক্যানসারে আক্রান্ত হন সঞ্জয়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলে তাঁর চিকিৎসা। এই কঠিন সময়ে জীবনের অনেক পরিকল্পনাই থমকে যায়। কিন্তু নিজের আশার আলো কোনও নিভতে দেননি তিনি। চিকিৎসা শেষে ফের কর্মজীবনে ফেরেন তিনি। আবারও রায়পুরের একটি ব্যাঙ্ক এবং পরে মহাসমুন্দের ডাক বিভাগে কাজ করেন। তবে প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার স্বপ্নটিেকও বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে আবার চাকরি ছেড়ে পুরো দমে শুরু করেন ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি।

বারবার ব্যর্থতার পর অবশেষে তিনবারের চেষ্টায় ২০২৫ সালের পরীক্ষায় সফল হন সঞ্জয়। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের সমর্থন এবং আত্মীয়দের উৎসাহের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। সঞ্জয়ের কথায়, সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের মানুষের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, আইএএস হোক বা অন্য কোনও প্রশাসনিক দায়িত্ব, জনসেবার মধ্য দিয়েই জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করতে চান তিনি। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিও অদম্য মনোবলকে থামাতে পারে না।












