বাংলাহান্ট ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল। কিশ্তওয়ার জেলার বিস্তীর্ণ অংশে শুরু হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান। গোয়েন্দা সূত্রে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সদস্যদের অনুপ্রবেশের খবর মিলতেই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। জঙ্গিদের গতিবিধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) জইশ জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় শুরু তল্লাশি অভিযান
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত কিশ্তওয়ার ও সংলগ্ন কয়েকটি অঞ্চলে কোনও ধরনের ইন্টারনেট পরিষেবা মিলবে না। ২জি, ৩জি, ৪জি কিংবা ৫জি—সব পরিষেবাই সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বারামুলার সিংহপোরা, কিশ্তওয়ারের ছত্রু এবং চিঙ্গম এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ছয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।
গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই কিশ্তওয়ারে পৌঁছয় ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তারক্ষীদের যৌথ বাহিনী। তারপর থেকেই জঙ্গিদের খোঁজে গ্রামে গ্রামে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ছত্রু এলাকার নইদগাম, আরিগাম ও দ্বাথর অঞ্চলে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর ধারণা, কয়েক জন জঙ্গি ওই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা ফাঁক গলে তারা ভারতে প্রবেশ করেছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবুও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, জঙ্গিরা স্যাটেলাইট ফোন বা অন্য কোনও বিকল্প প্রযুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে কি না। জঙ্গি কার্যকলাপের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন: চাষিদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা! বাংলা শস্য বীমায় ২.৩৫ লক্ষ কৃষকের জন্য ৮০ কোটির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত সপ্তাহেই কাশ্মীরের কাঠুয়ায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক পাকিস্তানি জঙ্গির মৃত্যু হয়, যার সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের যোগাযোগ ছিল বলে অনুমান। তার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই কিশ্তওয়ারে ফের জইশের গতিবিধির খবর সামনে আসায় সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। যদিও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন, তবুও নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি, সম্ভাব্য বিপদ এড়াতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পরিষেবা ফের চালু করা হবে।












