বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর ফ্যামিলি পেনশন (Pension) নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর অধিকার আছে কি না এই প্রশ্নে একেবারে স্পষ্ট বার্তা দিল আদালত। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে আইনত অবৈধ। তাই সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে ফ্যামিলি পেনশন দাবি করা যায় না। এই রায় সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
মামলার সূত্রপাত কী থেকে?
ঘটনার সূত্রপাত এক মৃত সরকারি কর্মচারীর ফ্যামিলি পেনশন (Pension) দাবি ঘিরে। এক মহিলা নিজেকে ওই কর্মচারীর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করে পারিবারিক পেনশনের আবেদন জানান। তিনি প্রথমে সংশ্লিষ্ট স্কুল ও গণশিক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন করেন। তবে দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দেয় এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে আইনসম্মত নয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই মহিলা মামলা করেন ওড়িশা হাই কোর্টয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে।
সিঙ্গল বেঞ্চ কী রায় দেয়?
সিঙ্গল বেঞ্চ সরকারি দপ্তরের সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করে। মামলায় বিচারকের জানায় পেনশন (Pension) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কোনও আইনি ত্রুটি নেই। দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ফ্যামিলি পেনশনের দাবি আইনত গ্রহণযোগ্য নয় এরপর ওই মহিলা ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত রায়
বিচারপতি দীক্ষিত কৃষ্ণ শ্রীপাদ এবং বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ ১৩ জানুয়ারি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কেই বহাল রাখে। পর্যবেক্ষণে আদালত জানায় –
- অবৈধতাকে স্বীকৃতি নয়: প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়ে পেনশন দেওয়া মানে অবৈধতাকে আইনি প্রশ্রয় দেওয়া।
- আইনের স্পষ্ট ধারা: হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ১৭ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী এমন পুনর্বিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- বিবাহের মূল নীতি: হিন্দু আইনে এক বিবাহ বা মনোগ্যামি নীতিকেই ভিত্তি ধরা হয়েছে।
পেনশন বিধিতে ‘স্ত্রী’ শব্দের ব্যাখ্যা
আদালত পেনশন (Pension) রুলসের ব্যাখ্যায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়। পেনশন বিধিতে সুবিধাভোগী হিসেবে ‘Wife’ শব্দটি একবচনে ব্যবহৃত এর অর্থ, একাধিক স্ত্রীকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। পেনশন রুলস কখনওই হিন্দু বিবাহ আইনের বিরোধিতা করতে পারে না। বরং দুই আইন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এক বিবাহ নীতিকেই মান্যতা দেয়।

আরও পড়ুনঃ ১৮,৯০০ নামের তালিকা, শুরু হতে চলেছে কাউন্সেলিং, একাদশ-দ্বাদশ নিয়োগ নিয়ে প্রকাশ্যে বড় আপডেট
সরকারি কর্মচারীদের জন্য কী বার্তা?
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সার্ভিস রুলস ও ব্যক্তিগত আইন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে বা অবৈধভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে মৃত্যুর পর কোনও সরকারি সুবিধা বা ফ্যামিলি পেনশন (Pension) পাওয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেআইনি সম্পর্কের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া যে সম্ভব নয় এই অবস্থানই স্পষ্ট জানিয়েছে আদালত।












