বাংলা হান্ট ডেস্ক : নির্বাচনী পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ভবিষ্যৎ। দলের নেতৃত্বের ভূমিকা এবং কর্মীদের মনোভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। এই আবহেই দলের প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তৃণমূল (Trinamool Congress) প্রসঙ্গে প্রবীণ সাংসদ
সম্প্রতি দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলে রাজ্যসভার এই সাংসদ দাবি করেছেন, সংগঠনের ভেতরে ক্রমশ এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ কর্মী ও দীর্ঘদিনের নেতাদের মতামতের আর কোনও মূল্য থাকছে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তি, ফলে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নেতৃত্বের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলেই তাঁর অভিযোগ।
দলের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ এখন আর চাপা থাকছে না।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন সুখেন্দু শেখর। তিনি বলেন, “আমি যা দেখছি তা অত্যন্ত ভয়াবহ। এই দলটির আয়ু আর মাত্র কয়েকদিন। গোটা সংগঠনটি এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে চলেছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই মন্তব্য কেবলমাত্র একজন নেতার ব্যক্তিগত অসন্তোষ নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে চলতে থাকা মতভেদ ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক টানাপোড়েনেরই বহিঃপ্রকাশ। আরজি কর-কাণ্ডের পর তৃণমূলের ভাবমূর্তি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই প্রেক্ষাপটেও সুখেন্দু শেখরের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে দলের বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় মন ফেরাতে বড় পরিকল্পনা রাজ্যের
তাঁর মতে, নেতৃত্বের উচিত দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, ভুলত্রুটি স্বীকার করা এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।













