অবাক কাণ্ড! রেগে গিয়ে কোটি কোটি টাকা দান করলেন Google-এর কো-ফাউন্ডার, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

Published on:

Published on:

Sergey Brin donated millions of rupees for this reason.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অবাক করা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন গুগলের কো-ফাউন্ডার তথা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনকুবের সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, আমেরিকায় চলমান ট্যাক্স বিতর্কের আবহে তিনি একটি বড় ও আশ্চর্যজনক পদক্ষেপ নিয়েছেন। রিপোর্ট অনুসারে, সান ফ্রান্সিসকোতে প্রস্তাবিত একটি নতুন ব্যবসায়িক ট্যাক্স আইনের প্রতিবাদে সের্গেই ব্রিন প্রায় ৫ লক্ষ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৪.৭৭ কোটি টাকা দান করেছেন।

সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin) দান করলেন কোটি কোটি টাকা:

এই বিপুল অর্থ একটি রাজনৈতিক কমিটিকে দান করা হয়েছে। যেটি ‘ওভারপেইড সিইও ট্যাক্স’ নামক একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। এই ট্যাক্স প্রস্তাবটি সান ফ্রান্সিসকোতে একটি বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্ম দিয়েছে। মূলত, আগামী ২ জুন, সেখানকার ভোটাররা ২ টি পৃথক ট্যাক্স প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন। সেগুলি হল মেজার সি এবং মেজার ডি। মেজার সি বিভিন্ন বাণিজ্য সমিতি এবং ব্যবসায়িক গোষ্ঠী দ্বারা সমর্থিত। এই প্রস্তাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ট্যাক্স ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ট্যাক্স ছাড়ের সীমা ৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এর ফলে, বৃহত্তর কোম্পানিগুলির ওপর ট্যাক্সের বোঝা বাড়বে।

Sergey Brin donated millions of rupees for this reason.
সের্গেই ব্রিন

অন্যদিকে, মেজার ডি ব্যাপক বিতর্কের মধ্যে পড়েছে। এটিকে ‘ওভারপেড সিইও ট্যাক্স’ বলা হচ্ছে। এই প্রস্তাবে একটি কোম্পানির সিইও এবং তাঁর কর্মচারীদের বেতনের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ট্যাক্স আরোপের কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এতে শুধু সান ফ্রান্সিসকোর কর্মচারীদেরই নয়, বরং কোম্পানির বিশ্বব্যাপী কর্মচারীদের বেতনও অন্তর্ভুক্ত হবে। এমতাবস্থায়, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং প্রগতিশীল গোষ্ঠীগুলি যুক্তি দিচ্ছে যে, শহরের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বড় এবং ধনী কোম্পানিগুলির উচ্চতর ট্যাক্স প্রদান করা উচিত। কিন্তু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির দাবি, এর ফলে কোম্পানিগুলি সান ফ্রান্সিসকো ছেড়ে চলে যেতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ৫১,০০০ যুবক-যুবতী পেলেন সরকারি চাকরি! নিয়োগপত্র বিতরণ করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী

অসন্তুষ্ট হয়েছেন সের্গেই ব্রিন: জানিয়ে রাখি যে, সের্গেই ব্রিনও এই বিষয়ে অসন্তুষ্ট। রিপোর্ট অনুসারে, তিনি শুধু প্রস্তাবটির বিরোধিতাই করেননি বরং একটি বিকল্প, বিজনেস-ফ্রেন্ডলি প্রস্তাবে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য যে, সের্গেই ব্রিনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৬০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়। সম্প্রতি, তিনি তাঁর বাসস্থান ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নেভাদার লেক তাহোর কাছে স্থানান্তর করেছেন। অনুমান করা হচ্ছে যে, তাঁর এই সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। কারণ নেভাদায় কোনও রাজ্য ট্যাক্স নেই।

আরও পড়ুন: যা কেউ পারেনি সেটাই করল রিলায়েন্স! প্রথম ভারতীয় সংস্থা হিসেবে গড়ল এমন নজির, জানলে চমকে যাবেন

ব্রিন সমাজতন্ত্রের বিরোধী: উল্লেখ্য যে, ব্রিন সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, তিনি সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আমেরিকায় পালিয়ে আসে এবং সমাজতন্ত্রের কুফলগুলি তারা প্রত্যক্ষ করেছে। ব্রিনের মতে, তিনি চান না ক্যালিফোর্নিয়া সেই পথে এগোক। এদিকে, এই সামগ্রিক বিষয়টি মার্কিন টেক সেক্টরে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে, সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নেয়াররা এখন প্রকাশ্যে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন। বিশেষ করে এখন যখন নতুন নীতি তাদের ব্যবসা ও সম্পদকে প্রভাবিত করছে। সান ফ্রান্সিসকো ইতিমধ্যেই খালি অফিস, কর্পোরেট স্থানান্তর এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে। যার ফলে আসন্ন ভোটটি শুধু স্থানীয় রাজনীতির জন্যই নয়, বরং সমগ্র মার্কিন টেক ইন্ডাস্ট্রির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।