বাংলা হান্ট ডেস্ক: তৈরি হল ইতিহাস! জল্পনাকে সত্যি করে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মমতার করা SIR মামলার শুনানিতে সওয়াল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নোটিস জারি করেছে এদিন। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ, রাজ্য সরকার যেন বাংলা ভাষা বোঝে, এমন অফিসারদের তালিকা দেয়। কমিশন যেন নামের ছোট ভুলে কাউকে বাদ না-দেয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানায়, শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় আরও সতর্ক হতে হবে।
এসআইআর মামলায় দুই পক্ষকে নোটিস। কমিশন কী কী পদক্ষেপ করছে, জানাতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, তাও নবান্নকে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
শুনানির শুরু থেকে যা যা হল…
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে মমতার করা মামলাটি শুনতে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট। জল্পনা চলছিল, এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সওয়াল করবেন। আর সেটাই সত্যি হল।
এদিন শুনানি চলাকালীন বলার জন্য অনুমতি চান মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুরও করেন প্রধান বিচারপতি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে ৫ মিনিট বলার অনুমতি দিন’। প্রধান বিচারপতি বললেন, “৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, অসুবিধা নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আইনজীবীরা সওয়াল করছেন।”
তিঁনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি মামলা করেছে। এই আদালতের অন্যতম সেরা আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করছেন।” মমতার সওয়াল, ‘আমার কাছে কয়েকটি ছবি রয়েছে। সেটি দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক।’ সুপ্রিম নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা।
মমতার কথায়, ‘আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। তা নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হচ্ছে। ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে। বুলডোজ় করা হচ্ছে!’ প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাতজোড় করে বললেন মমতা। কেন অসমে করা হয়নি? সেই প্রশ্নও তোলেন তিঁনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মমতা ম্যাডাম ২-৩টি বিষয়ে ব্যাখ্যা করছি। আধার কার্ড সংক্রান্ত মামলা শুনেছি। রায় ঘোষণা বাকি রয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত তাড়াহুড়োর কী আছে? ফেস্টিভ্যাল সিস্টেমে করেছে তারা।” মমতা বলেন, ‘ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকে রোল পর্যবেক্ষক থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন। অনেকে জীবিত রয়েছেন।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য সহযোগিতা করলে মাইক্রো অবজার্ভারের প্রয়োজন নেই, বৈধ ভোটার বাদ যাক আমরা চাই না।

মমতার সওয়াল, ‘শুধু নাম কাটার জন্যই এসআইআর প্রক্রিয়া। বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি গেলে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। গরিব মানুষ বাড়ি বদলালে নাম কেটে দিচ্ছে। যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিক শুরুর ৭ দিন আগে বড় সিদ্ধান্ত পর্ষদের, পড়ুয়াদের জন্য ফের খোলা হল পোর্টাল
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি দল নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলছি।’ প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, “গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।” এরপরই মমতার মামলায় নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনকে নোটিস ইস্যু। তার পরেই মমতা বলেন, “আমি খুবই ধন্য হয়েছি। মানুষের অধিকার রক্ষা করুন।” আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।












