বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিদ্যুতের বিল নিয়ে প্রায়শই গ্রাহকরা বিরক্তবোধ করেন। কারণ ছাড়াই নাকি মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে। এবার ওই পুরনো মিটার বদলে চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্মার্ট মিটার (Smart Meter)। স্মার্ট মিটার আপনার টাকা বাঁচাবে। নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজেই বিদ্যুতের খরচের উপর নজর রাখতে পারবেন। ফলে বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসলে ঠিক কী কী সুবিধা মিলবে, তা জেনে নেওয়া দরকার।
স্মার্ট মিটার (Smart Meter) টাকা বাঁচাবে
পুরনো মিটারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কর্মী এসে মিটার দেখে রিডিং নিতেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রয়োজন থাকবে না। স্মার্ট মিটার ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে পাঠাতে সক্ষম। ফলে রিডিং সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও সঠিক হবে। এর ফলে আনুমানিক হিসাব করে বিল তৈরি হওয়া বা ভুল রিডিংয়ের মতো সমস্যাও কমবে। বাড়িতে যতটা বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিলিংয়ের হিসাব তৈরি হবে।
স্মার্ট মিটার বসালে মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে গ্রাহক নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ খরচের উপর সরাসরি নজর রাখতে পারবেন। কোন সময়ে ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে, কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্র তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ টানছে—এই ধরনের তথ্য জানা গেলে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো সম্ভব। নির্দিষ্ট সীমার বেশি খরচ হয়ে গেলে সতর্কবার্তা বা নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
স্মার্ট মিটারে থাকছে প্রিপেইড ব্যবস্থা। মোবাইলে যেমন আগে টাকা ভরে তারপর পরিষেবা ব্যবহার করা হয়, একইভাবে নির্দিষ্ট অর্থ আগে থেকে রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সুযোগ মিলতে পারে। ব্যালেন্স কমে গেলে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। ফলে মাসিক বাজেট অনুযায়ী বিদ্যুতের খরচ পরিকল্পনা করা সহজ হবে। তবে প্রিপেইড ব্যবস্থা পছন্দ না করলে পোস্টপেইড পরিষেবাও চালু থাকবে। কোনও এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বা লাইনে প্রযুক্তিগত গোলযোগ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে পৌঁছনোর ব্যবস্থা থাকতে পারে।

আরও পড়ুন : লিঙ্গ নির্বিশেষে পরিবারের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করলেই হোম মেকার! বড় রায় হাইকোর্টের
বৈদ্যুতিক লাইনে অস্বাভাবিক ভোল্টেজ ওঠানামার মতো পরিস্থিতি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মিটার সহায়তা করতে পারে। এর ফলে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমানো সম্ভব। স্মার্ট মিটার শুধু পুরনো মিটারের আধুনিক সংস্করণ নয়; বিদ্যুৎ ব্যবহারের পুরো ব্যবস্থাকেই আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি পদক্ষেপ। সচেতনভাবে ব্যবহার করতে পারলে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর পাশাপাশি মাসিক খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।














