বাংলা হান্ট ডেস্ক : কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য আরও সহানুভূতিশীল ও স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ঋতুচক্রের সময় ছুটি (Menstrual Leave) নিয়ে নানা মহলে আলোচনা হলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (State Government)। চালু হল ঋতুকালীন ছুটির নতুন নীতি। এই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ঋতুকালীন ছুটি ঘোষণা রাজ্য সরকারের (State Government)
রাজ্যের মহিলা কর্মীরা বছরে মোট ১২ দিন ঋতুকালীন ছুটি পাবেন। অর্থাৎ, প্রতি মাসে একদিন করে ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ, ১৮ থেকে ৫২ বছর বয়সী সমস্ত নারী কর্মী এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। সব ধরনের মহিলা কর্মীরাই এই ছুটি নিতে পারবেন। মাসিকের সময় মহিলাদের যে শারীরিক অসুবিধা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, তা মাথায় রেখেই এই মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এমন ছুটি নিতে গিয়ে কর্মীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্যা দূর করতে সরকার জানিয়েছে, এই ছুটি নেওয়ার জন্য কোনও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বা চিকিৎসকের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে না। ফলে কর্মীরা সহজেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।নারীদের শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই কর্ণাটক সরকারের এই পদক্ষেপ।
এই প্রসঙ্গে, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ কর্ণাটক হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই নীতিকে সর্বস্তরে কার্যকর করা উচিত। আদালতের মতে, ঋতুকালীন ছুটি নারীদের মৌলিক অধিকারের অংশ। সরকার ইতিমধ্যে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, কর্নাটকের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে এই নিয়ম মানতে হবে। প্রতিমাসে একদিন করে বছরে মোট ১২ দিন এই ছুটি গণ্য হবে। ছুটিটি পেইড লিভ হিসেবেই রাখা হবে। ঋতুকালীন ছুটি জমিয়ে রাখা যাবেনা।

কর্ণাটক সরকারের উদ্যোগে কর্মক্ষেত্রে নারীদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে কাজ করার চাপ কমবে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, নিয়ম ভাঙ্গলে কি শাস্তি হবে তা স্পষ্ট নয়। কর্মক্ষেত্রে যাতে কোনো মহিলা বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের নীতি দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













