বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় কলেজের প্রথম সেমিস্টারেই সব বিষয়ে ফেল করেছিলেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) আনন্দ মেগালিঙ্গাম (Anand Megalingam)। সেই ব্যর্থতা অবশ্য তাঁর সাফল্যের (Success Story) পথে থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং নিজের পছন্দের বিষয় খুঁজে পাওয়ার পর সম্পূর্ণ বদলে যায় তাঁর জীবনের দিশা। আজ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে পরিচিত নাম আনন্দ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে ওঠা এক তরুণ কীভাবে নিজের আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের জোরে মহাকাশ প্রযুক্তির দুনিয়ায় জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁর গল্প সেটাই দেখায়। ব্যর্থতা যে সাফল্যের পথে শেষ বাধা নয়, বরং নতুন করে শুরু করার সুযোগ হতে পারে, আনন্দের জীবন তারই উদাহরণ।
আনন্দ মেগালিঙ্গমের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
তামিলনাড়ুতেই আনন্দের ছোটবেলা কেটেছে যথেষ্ট সাধারণ পরিবেশে। প্রতিদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেতে হত তাঁকে। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিও খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। তাঁর বাবা জীবিকা নির্বাহের জন্য ট্রাক্টর চালাতেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যান আনন্দ। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী চাকরির আশায় কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে কলেজে ভর্তি হলেও প্রথম সেমেস্টারেই সব বিষয়ে ফেল করেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারেন, এই বিষয়টি তাঁর জন্য নয়। শেষ পর্যন্ত কলেজ ছেড়ে নিজের আগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন (Success Story)।
আরও পড়ুন: ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র! ভারতে বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নেপাল
সেখান থেকেই আসে জীবনের বড় মোড়। বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতি ছোট থেকেই তাঁর যে আগ্রহ ছিল, সেটিকেই পেশার পথ হিসেবে বেছে নেন আনন্দ। এরপর অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। নিজের পছন্দের বিষয় পেয়ে তাঁর পড়াশোনাতেও আসে বড় পরিবর্তন। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিততে থাকেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতার উপর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিশ্চিত হন যে অ্যারোস্পেসই তাঁর প্রকৃত জায়গা। শেষ পর্যন্ত ভারত ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ৯.৮ সিজিপিএ নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পূর্ণ করেন আনন্দ। শুধু তাই নয়, কৃতিত্বের জন্য পান স্বর্ণপদকও।
পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরির পথ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে নিজের উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন আনন্দ। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্পেস জোন ইন্ডিয়া’। সংস্থাটির কাজের পরিধির মধ্যে রয়েছে মহাকাশ প্রযুক্তি, হাইব্রিড রকেট, গবেষণা এবং মহাকাশ সংক্রান্ত শিক্ষা। তাঁর এই উদ্যোগে পরিবারের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাবা চাতার সিংকে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা করেন আনন্দ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাবাকে সংস্থার ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্বও দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ যে বাবা একসময় পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে ট্রাক্টর চালিয়েছেন, পরবর্তীতে ছেলের মহাকাশ-উদ্যোগেরও অংশ হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন: আমেরিকার সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি! ভারতীয় সেনার হাতে আসছে ‘ট্যাঙ্ক কিলার’ জ্যাভলিন মিসাইল
আনন্দের সংস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য (Success Story) আসে ২০২৪ সালের ২৪ অগস্ট। তামিলনাড়ুর তিরুবিদানধাই থেকে ‘RHUMI-1’ হাইব্রিড রকেট উৎক্ষেপণ করে স্পেস জোন ইন্ডিয়া। এর মাধ্যমে বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজের জায়গা আরও শক্ত করেন আনন্দ। তাঁর সংস্থার বর্তমান মূল্যায়ন প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কলেজের প্রথম সেমেস্টারে সব বিষয়ে ফেল করা সেই তরুণের এই পথচলা তাই নিছক সাফল্যের গল্প নয়; এটি নিজের ভুল বুঝে পথ বদলানো, প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার গল্প। আনন্দের জীবন দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ব্যর্থতা কখনও কখনও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছনোর প্রথম ধাপও হতে পারে।













