বাবার মৃত্যুর পর রাস্তায় আবর্জনা পরিষ্কার করে পড়িয়েছেন মা! IIT পাশ করে UPSC-তে বাজিমাত ছেলের

Updated on:

Updated on:

Success Story will be Gautam Padibhar will amaze you.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সন্তানের জন্য সফল (Success Story) ভবিষ্যৎ গড়তে মা কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তারই এক আবেগঘন উদাহরণ গৌতম পাদিভারের (Gautam Padibhar) জীবন। একসময় পরিবারের দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তাঁর মাকে কখনও গ্রামের মাঠে দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে, কখনও আবার মুম্বইয়ের (Mumbai) বস্তিতে ছেঁড়া কাপড় ও আবর্জনা সংগ্রহ করে উপার্জন করতে হয়েছে। কিন্তু হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি তিনি। সেই লড়াইয়ের ফলেই আজ গৌতম দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসের আধিকারিক।

গৌতম পাদিভারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

গৌতমের নিজের লেখা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উঠে এসেছে তাঁর ছোটবেলার কঠিন দিনগুলির কথা। তিনি জানান, তাঁর মা কখনও স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। সন্তানদের বড় করে তোলা এবং তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে। অভাবের কারণে পরিবারকে অনাহারেও দিন কাটাতে হয়েছে। তবু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আপস করেননি গৌতমের মা। নিজের জীবনে শিক্ষার সুযোগ না পেলেও ছেলেমেয়েরা যাতে বড় স্বপ্ন দেখতে পারে, সেই চেষ্টাই করে গিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে টুকরো করতে চান আসিম মুনির! কেন এমন পরিকল্পনা?

মায়ের সেই ত্যাগকে সঙ্গী করেই ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান গৌতম। মুম্বইয়ের বস্তিতে বেড়ে ওঠার পর তাঁর পড়াশোনার সুযোগ আসে মহারাষ্ট্রের জালনার জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে পৌঁছন দেশের অন্যতম নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজে। কোনও আনুষ্ঠানিক কোচিংয়ের সাহায্য ছাড়াই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (জেইই) উত্তীর্ণ হয়ে আইআইটিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার ফলেই এই সাফল্য আসে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর অবশ্য তাঁর স্বপ্নের পরিধি আরও বড় হয়।

এর পরেই গৌতমের জীবনে আসে নতুন লক্ষ্য—ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করা। ২০২২ সালে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস পরীক্ষায় বসে সর্বভারতীয় স্তরে ১৩৯ নম্বর র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি। পরে ২০২৩ ব্যাচের ছত্তিশগড় ক্যাডারের আধিকারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ছত্তিশগড়ের কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গৌতমের কথায়, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা কিংবা কোচিং না থাকলেও মুম্বইয়ের বস্তি থেকে আইআইটি মাদ্রাজ পর্যন্ত তাঁর যাত্রা সম্ভব হয়েছে মায়ের জন্যই। লড়াই করার সাহস, পরিশ্রম করার শিক্ষা এবং বড় স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা তিনিই তাঁকে দিয়েছেন।

Success Story will be Gautam Padibhar will amaze you.

আরও পড়ুন: নেটমাধ্যমেও SIR বিক্ষোভের উত্তাপ! সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

গৌতমের জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলির একটি ছিল যখন তাঁর মা তাঁর কর্মস্থলে আসেন এবং ছেলের দাপ্তরিক চেয়ারে বসেন। দৃশ্যটি যেন বহু বছরের সংগ্রামের এক নীরব স্বীকৃতি। যে মা একসময় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে দিনমজুরি করেছেন, আবর্জনা কুড়িয়েছেন, সেই মায়ের সামনেই আজ তাঁর ছেলে একজন দায়িত্বশীল সরকারি আধিকারিক। গৌতমের কাছে এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, মায়ের আত্মত্যাগেরও জয়। নিজের পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আজ তিনি যা হয়েছেন, তার পিছনে মায়ের অবদানই সবচেয়ে বড়। তাঁর এই কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, কঠিন পরিস্থিতি স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ঠিকই, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারে (Success Story)।