বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে SIR সংক্রান্ত তথ্য যাচাই ও শুনানির কাজ শেষ করতে পারেনি। তাই শুনানির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আজ, সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রয়েছে। গত শুনানির মতো এদিনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা। সশরীরে না হলেও তিনি ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন বলে খবর।
SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের টানাপোড়েনে নতুন মাত্রা
সম্প্রতি SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক গ্রুপ-বি আধিকারিক দেয়নি। সেই কারণেই ভিন রাজ্য থেকে অফিসার এনে কাজ চালাতে হয়েছে কমিশনকে। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের আইনজীবী এই অভিযোগ তোলেন। এর পরেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় কতজন গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়া সম্ভব, তার সঠিক সংখ্যা জানাতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে শনিবারই নবান্ন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানায়, এসআইআর কাজের জন্য মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে কমিশন কার্যত চাপে পড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ একদিকে তারা রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেই অভিযোগের জবাব দিয়েছে। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রকে বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবারই কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।
গত শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি উপস্থিত থেকে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল যান্ত্রিক নিয়মের কারণে যেন কোনও প্রকৃত যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। শীর্ষ আদালতও তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশ দেয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির অজুহাতে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘রিপোর্ট দিন’, জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
আইনি মহলের মতে, SIR নিয়ে একদিকে নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্ত বারবার বদলানো, অন্যদিকে সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া, এই সব কারণে কমিশনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন সোমবারের শুনানিতে কমিশন কী যুক্তি দেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা দেশের।












