‘রিপোর্ট দিন’, জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুরুলিয়ার কংসাবতী নদীর কাঁটাবেড়া ঘাটে একটি সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। কিন্তু মাঝপথে সেই কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সেতুর কাজ আর এগোয়নি। এতে দুই পাড়ের বহু গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এবার এই বন্ধ হয়ে থাকা সেতু নির্মাণ আবার কীভাবে শুরু করা যায়, তা জানতে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)।

কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের

পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের আড়শা ব্লকের তুম্বাঝালদা গ্রামের বাসিন্দা অম্বরীশ মাহাতো এই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এই সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও কাজ শুরু হয়েও অজানা কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই মামলার শুনানিতে ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে—কীভাবে সেতুর কাজ আবার শুরু করা সম্ভব, তা জানিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

কংসাবতী নদীর দক্ষিণ দিকে রয়েছে আড়শা ব্লক এবং উত্তর দিকে রয়েছে পুরুলিয়া-১ ও জয়পুর ব্লক। এই দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি সেতুর প্রয়োজন বহুদিনের। বামুনডিহা, তুম্বাঝালদা, জুরাডি, কাঞ্চনপুর, কাঁটাবেড়া, পটমপুটরা, আহাড়রা-সহ বহু গ্রামের মানুষ এই ঘাটে সেতু তৈরির দাবি করে আসছেন অনেক বছর ধরে। বাম আমলে কয়েকবার সমীক্ষা হলেও সেতু তৈরি শুরু হয়নি। পরে রাজ্যে সরকার বদলের পর পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ দপ্তর এই সেতু নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ করে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৫–১৬ আর্থিক বছরে সেতু তৈরির জন্য ৯ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। ঠিক হয়, ১৪৭ মিটার লম্বা এবং ১০ মিটার চওড়া একটি সেতু তৈরি করা হবে। কাজও শুরু হয়েছিল সেই সময়েই। কথা ছিল দুই বছরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে। স্থানীয় মানুষ জানাচ্ছেন, শুরুতে কাজ বেশ দ্রুতই চলছিল। সেতুর স্তম্ভ তৈরির কাজও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর হঠাৎ করেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হল তার সঠিক কারণ কেউ জানেন না। পরে করোনা মহামারির সময় নির্মাণের দায়িত্বে থাকা সংস্থার কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান এবং কাজ পুরোপুরি থেমে যায়।

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রথম রিপোর্টে কিছু ভুল ছিল। পরে নতুন করে রিপোর্ট তৈরি করলে দেখা যায়, সেতু বানাতে আগের তুলনায় আরও প্রায় তিন কোটি টাকা বেশি লাগবে। এই বাড়তি টাকার অনুমোদনের জন্য রাজ্যের অর্থ দপ্তরের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমোদন এখনও মেলেনি।

মামলাকারী অম্বরীশ মাহাতো বলেন, “সেতুর দাবিতে বহুবার প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। কাজ শুরু হলেও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হল, কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তাই বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছি।” তিনি আরও জানান, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৯ মার্চ হবে।

Calcutta High Court seeks report on stalled Kangsabati Bridge construction

আরও পড়ুনঃ ব্যক্তি মমতা কি নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন? আজ সুপ্রিম কোর্টে বড় শুনানি

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, “হাই কোর্টের (Calcutta High Court) রায় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে নতুন প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হওয়ার পর বাড়তি অর্থের জন্য অর্থ দপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি এখন কোন স্তরে রয়েছে, তা খোঁজ নিচ্ছি।” এখন এলাকার মানুষের আশা, হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা কংসাবতী সেতুর কাজ আবার দ্রুত শুরু হবে এবং তাঁদের যাতায়াতের সমস্যা মিটবে।