বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসানে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করতে হবে।
ডিএ (Dearness Allowance) রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ
ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে রায় ঘোষণার পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষ। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু শুধু রায় পেলেই হবে না, তা বাস্তবায়িত করাও জরুরি। হকের টাকা আদায় করতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ কোনওভাবেই পথ ছাড়বে না।”
আজকের বাজেটেই ডিএ প্রভিশনের দাবি
ভাস্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আজ রাজ্য বিধানসভায় যে বাজেট পেশ হবে, তাতেই ডিএ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রভিশন রাখতে হবে। তাঁর কথায়, “আজকের বাজেটেই ডিএ-র (Dearness Allowance) জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। যদি তা না রাখা হয়, তাহলে আবার পথে নামতে বাধ্য হব।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্য সরকারের পালানোর সব রাস্তা বন্ধ করা হবে। ডিএ দিতেই হবে এটাই চূড়ান্ত কথা।” ভাস্করের মতে, এই রায় শুধু পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়, গোটা দেশের কর্মচারী সমাজের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এই রায়ের প্রভাব সারা দেশে পড়বে। এটি শুধুমাত্র ডিএ অধিকারের রায় নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন।”
কমিটি গঠনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএ (Dearness Allowance) প্রদানের প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সেই কমিটির প্রধান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রাকে। কমিটিতে আরও দুই বিচারপতি থাকবেন।
ভাস্কর ঘোষ জানান, “৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবে এবং ১৫ মে-এর মধ্যে রিপোর্ট দেবে।”
রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যের আর্থিক অবস্থা খারাপ। এই যুক্তি আর গ্রহণযোগ্য নয়। ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য, “রাজ্যের আর্থিক অবস্থা মোটেও খারাপ নয়। বিভিন্ন ক্লাবকে টাকা দেওয়া হয়েছে, যা কোনও পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ নয়। তাই কর্মচারীদের ন্যায্য ডিএ না দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।”

আরও পড়ুনঃ DA মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্যের! রায়কে স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু বললেন…
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র (Dearness Allowance) দাবিতে বহু বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। পাশাপাশি চলছিল আইনি লড়াইও। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে বড় জয় পেলেন আন্দোলনকারীরা। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে।












