বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। সেই কারণেই শুরুতে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল বিজয় মিছিল। পরে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও এখন কড়া নিয়ম মেনে তবেই মিছিল করা যাবে। এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কর্মীদের জানিয়েছেন, ৯ তারিখের পর থানার অনুমতি নিয়ে মিছিল করতে। আর পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যজুড়ে সতর্ক রয়েছে পুলিশ।
ভোটের ফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে সব ধরনের বিজয় মিছিল ও জমায়েত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা তুলে নেওয়া হয়। এখন মিছিল করতে হলে আগে থেকে স্থানীয় থানার অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৯ তারিখের পর বিজয় মিছিল শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)
বুধবার নন্দীগ্রামে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, ৯ তারিখের পর নিজেদের এলাকার থানার অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল করতে হবে। পাশাপাশি তিনি শান্তি বজায় রাখার কথাও জোর দিয়ে বলেন। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক। জানানো হয়েছে, অনুমতি পেলেও মিছিলের সময় সব নিয়ম মানতেই হবে। কোথাও যেন উত্তেজনা না বাড়ে, সে জন্য সব থানাকে বিশেষভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
ভোটের ফল ঘোষণার দিনই কলকাতা পুলিশ জানিয়েছিল, ৪ মে কোনও দলই বিজয় মিছিল করতে পারবে না। পরে ৫ মে থেকে শর্ত মেনে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি জায়গায় অশান্তির খবর সামনে এসেছে। রাজ্যে প্রায় ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, গণনাকেন্দ্রেও বাড়তি নিরাপত্তা ছিল। তবুও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ভবানীপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে তৃণমূলের শিবির ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে নামতে হয়। নোয়াপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী তৃণঙ্কুর ভট্টাচার্যকে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর উপর হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে, যেখানে তাঁর গায়ে কাদা ছোঁড়া হয়।
এছাড়া যাদবপুর, বাঘাযতিন, পাটুলি, ট্যাংরা এবং এন্টালিতে তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পতাকা নামানো হয়েছে, কোথাও আবার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তারাতলায় এক তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কর্মীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। রুবি মোড় এলাকায় একটি ভবনের কাঁচ ভাঙার ঘটনাও ঘটে।

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা বদলাতেই নবান্নে অ্যাকশন! আলাপন-মনোজদের ভূমিকা ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত নয়। তাই একদিকে যেমন প্রশাসন কড়া নজর রাখছে, তেমনই নিয়ম মেনে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে (Suvendu Adhikari)।












