‘একুশে ছিলাম না প্রস্তুত, এবার..,’ ভোটের মুখে কড়া অবস্থান শুভেন্দুর

Published on:

Published on:

Suvendu Adhikari Claims BJP Will Win 177 Seats in Bengal Assembly Elections
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের এখনও অনেক দেরি, ভোটগ্রহণও শুরু হয়নি। কিন্তু তার আগেই ৪ মে ফলপ্রকাশের দিনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি বেশ গরম হয়ে উঠেছে। তৃণমূল যেখানে জয়ের উদযাপনের বার্তা দিচ্ছে, সেখানে বিজেপি তা দেখছে সম্ভাব্য অশান্তির ইঙ্গিত হিসেবে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ভোটের ফল ঘোষণার দিন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ভোট-পরবর্তী হিংসার ইঙ্গিত শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি দাবি করেন, ৪ মে ফলপ্রকাশের দিন রাজ্যজুড়ে ‘ডিজে’ বাজিয়ে এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে জয় উদযাপন করবে জোড়াফুল শিবির। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। তবে এই মন্তব্যকে সাধারণ জয়োল্লাস হিসেবে দেখছে না বিজেপি। বরং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মনে করছেন, এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ভোট-পরবর্তী হিংসার ইঙ্গিত। তাঁর মতে, ২০২১ সালের ভোটের পর যে ধরনের অশান্তি হয়েছিল, সেই একই পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ‘ডিজে’ মন্তব্য।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপির দাবি ছিল, বহু কর্মী আক্রান্ত হয়েছিলেন, অনেকেই ঘরছাড়া হয়েছিলেন, এমনকি খুনের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই স্মৃতি এখনও রাজনীতির আলোচনায় বারবার ফিরে আসে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এবার আর বিজেপি আগের মতো অপ্রস্তুত থাকবে না। তাঁর কথায়, একুশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে দল, তাই এবার কোনও কিছুই একতরফা হতে দেওয়া হবে না।

শুধু তাই নয়, ভোট পরিচালনা ও পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা অনেক কিছু শিখেছেন কীভাবে ভোটে অনিয়ম রুখতে হয় এবং ভোটের পর কর্মীদের সুরক্ষা দিতে হয়, সে ব্যাপারে এখন তারা প্রস্তুত।

আরও পড়ুনঃ ভোটাধিকার মৌলিক নয়! বিরাট রায় সুপ্রিম কোর্টের

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসী সুর, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা হুঁশিয়ারি, সব মিলিয়ে ৪ মে-র ফলপ্রকাশের দিন ঘিরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। গণনাকেন্দ্র থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের এলাকায় সব জায়গাতেই পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা।