তৃণমূল আমলে ভুয়ো একাউন্টে কোটি কোটি টাকা! কোন প্রকল্পে কত লুট ? ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published on:

Published on:

Suvendu Adhikari reveals Crores of rupees in schemes corruption in tmc rule
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আগের সরকারের নানা প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেনের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বারবার দাবি করেছেন, অতীতের সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির পর্দাফাঁস করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বিধানসভায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূল জমানায় একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ভুয়ো উপভোক্তাদের নামে বণ্টন করা হয়েছে।

তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনিয়মের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সামনে এসেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে। মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু হওয়া এই প্রকল্পে বহু পুরুষের নামেও টাকা পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ডোমকল এলাকায় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তার সংখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেই সরকার যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছে, কাদের জন্য চালু করেছেন? পুরুষদের পাওয়ার কথা? আপনি কতজন পুরুষকে দিয়েছেন? জঙ্গিপুর ব্লক, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর ব্লক, ডোমকল ব্লক, এখানে ভুয়ো কত দেখুন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫৬৮টি অ্যাকাউন্ট। যার মধ্যে ডোমকলে ৫৩৭ আর ৩১ বহরমপুরে।” শুধু এই প্রকল্প নয়, সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের বৃত্তি প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মাইনোরিটি স্কলারশিপের অর্থ ৩,০৭৬টি জাল অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ২৯৮টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে বলে তিনি জানান। বার্ধক্যভাতা প্রকল্পেও একই ধরনের কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৪৮টি জাল অ্যাকাউন্টে নিয়মিত সরকারি টাকা পাঠানো হত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষাশ্রী প্রকল্পে ৭১৫টি, মেধাশ্রী প্রকল্পে ২০৪টি, তপশিলি বন্ধু প্রকল্পে ৬,৫৩০টি, জয় জোহর প্রকল্পে ২,২৩৫টি এবং জাতীয় বৃত্তি প্রকল্পে ৭৯টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়েছে।

আদিবাসী ও তপশিলি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনের নামে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন”। এরপর বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “হিসেব দিতে পারবেন? সহযোগিতা করুন, কাজ করতে দিন।”

Suvendu Adhikari reveals  Crores of rupees in schemes corruption in tmc rule

আরও পড়ুন : ‘শ্রদ্বার্ঘ্য’ ভাতার আড়ালে লুকিয়ে কোটি টাকার রহস্য ? অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অধিবেশনেই নতুন আইন আনা হবে যাতে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।