ডিউটি বিক্রির অভিযোগে নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্যভবন! এবার মুখ দেখিয়েই দিতে হবে হাজিরা

Published on:

Published on:

Swasthya Bhawan Issues Strict Guidelines for Birth and Death Certificate Corrections

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পরই দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ! সরকারি হাসপাতালের ইন্টার্নদের একাংশের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে নিজেদের ডিউটি অন্যকে দিয়ে করানোর অভিযোগ ঘিরে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কড়া স্বাস্থ্যদপ্তর (Swastha Bhaban)। ইন্টার্ন, হাউসস্টাফ এবং পিজিটিদের জন্য বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ফেস প্রযুক্তিনির্ভর বায়োমেট্রিক হাজিরা।

ডাক্তারদের হাজিরায় বায়োমেট্রিকের ভাবনা স্বাস্থ্য দপ্তরের (Swastha Bhaban)‌

প্রাথমিকভাবে কলকাতার এসএসকেএম ও এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে এই নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিকল্পনা, এই দুই প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা কার্যকর করার পর অন্য মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও পর্যায়ক্রমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন নিয়মে হাসপাতালে পৌঁছে শুধু হাজিরা খাতায় সই করলেই চলবে না। মুখের ছবি শনাক্ত করে নির্দিষ্ট যন্ত্রে উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। আবার ডিউটি শেষ করে হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময়ও একই প্রক্রিয়ায় হাজিরা দিতে হবে। ফলে কোনও চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ছাড়ছেন কি না, কিংবা আদৌ নিজের দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে।

এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ইন্টার্ন, হাউসস্টাফ ও পিজিটি—প্রত্যেকের তথ্য বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নাম নথিভুক্তির পদ্ধতি জানিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে খবর। পাশাপাশি, কার কখন ডিউটি রয়েছে, সেই তালিকা বা রোস্টার মেনে কাজ করা বাধ্যতামূলক থাকবে। সময়ানুবর্তিতা ও হাসপাতালের ভিতরে পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও নজরদারি চালানো হবে। কোনও কারণে ছুটির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে আগে থেকেই তা জানাতে হবে।

স্বাস্থ্যদপ্তরের এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ডিউটি অদলবদল করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছিল, সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির একাংশে ইন্টার্নদের মধ্যে ডিউটি ভাগাভাগি বা বদলের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছে। সেখানে কে কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করবেন, তার ভিত্তিতে টাকার অঙ্কও নির্ধারণ করা হয় বলে দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, কোথাও এক ঘণ্টার জন্য ২০০ টাকা, আবার কোনও ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ‌

Swastha Bhaban has introduce biometric system for attandance

আরও পড়ুন : মাধ্যমিকের খাতা মূল্যায়নে কড়া নিয়ম! রিভিউতে নম্বর বাড়লেই জবাব দিতে হবে পরীক্ষককে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল। দাবি করা হয়েছিল, এমন কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; রাজ্যের একাধিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এরপরই প্রক্সি ডিউটি বন্ধ করার বিষয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা আসে। এবার সেই অবস্থান বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পথে এগোচ্ছে স্বাস্থ্যভবন। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা কতটা নিশ্চিত করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।