বাংলাহান্ট ডেস্ক: দিল্লি, মহারাষ্ট্র-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপের খবরের মধ্যেই এবার ঝাড়খণ্ডেও ধরা পড়ল H1N1 ভাইরাস। সাধারণভাবে ‘সোয়াইন ফ্লু’ (Swine Flu) নামে পরিচিত এই সংক্রমণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্য দফতর। রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (RIMS)-এ সম্প্রতি ১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ৮টি নমুনায় H1N1 সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপরই পরিস্থিতি নজরে রাখতে সমস্ত জেলার সিভিল সার্জন, মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং নজরদারি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu) নিয়ে একাধিক সতর্কতার মাঝেই আইসোলেশন ওয়ার্ডের প্রস্তুতি
তবে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই জানিয়েছেন রাজ্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা শশী প্রকাশ ঝা। তাঁর বক্তব্য, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এই অ্যালার্ট জারির মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, জ্বর, সর্দি বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। কারণ, সময়মতো রোগ চিহ্নিত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হয়।
আরও পড়ুন:ভেঙে গেল পূর্বের সমস্ত রেকর্ড! সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার
ঝাড়খণ্ড সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রতিদিন ইনফ্লুয়েঞ্জা-জাতীয় অসুস্থতা বা ILI এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বা SARI-এর উপসর্গ থাকা রোগীদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে রাঁচির RIMS এবং জামশেদপুরের MGM হাসপাতালে H1N1 ও H3N2 পরীক্ষার পরিকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে সন্দেহভাজন এবং আক্রান্ত রোগীদের জন্য অন্তত ১০টি শয্যার পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী PPE কিট, মাস্ক, ওষুধ, অক্সিজেনের সরঞ্জাম এবং ভেন্টিলেটরও মজুত রাখতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী, সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে প্রবীণ ব্যক্তি, পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সি শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্তদের। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর আকার নেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই তাঁদের মধ্যে জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও সর্দি-জ্বর বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের স্ক্রিনিংয়ের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মধ্য এশিয়ায় মোদির ‘মিশন’, উজবেকিস্তান-কিরগিজস্তানে চারদিনের সফর প্রধানমন্ত্রীর
চিকিৎসকদের মতে, H1N1 হল ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের একটি সংক্রামক ধরন, যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করে। আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা এবং প্রচণ্ড দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। ফলে সাধারণ ফ্লু ভেবে উপসর্গকে দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই এখন ঝাড়খণ্ড স্বাস্থ্য দফতরের মূল বার্তা। দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানেও H1N1 এবং H3N2-এর মতো ঋতুকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে নজরদারি চলছে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ঝাড়খণ্ডে আগেভাগে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে (Swine Flu)।













