বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি-এই সবকিছুই এখন দেশের শীর্ষ আদালতের নজরে। এই আবহেই বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক শুনানি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কিছু মন্তব্যে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে।
সুপ্রিমকোর্টে মমতার (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ল। সোমবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ তোলে যে, রাজ্যের পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কিছু মন্তব্য । এই প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরিস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জটিল হলে তারা হস্তক্ষেপ করতেও পিছপা হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময় এদিন মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকার একটি ঘটনার উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন জানায়, সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে অনুকূল নয়। কমিশনের দাবি, কিছু মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে এবং ভোটের আবহে অশান্তির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। দেশের শীর্ষ আদালতে কমিশন জানিয়েছে, এক জনসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়েছে যা মানুষের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করতে পারে।
কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা আক্রমণ চালাতে পারেন। নির্বাচনী আবহে এমন মন্তব্য অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মত কমিশনের। কমিশন প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে জমা করেছে।
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি ভিডিও ফুটেজে এক বিচারিক আধিকারিককে চরম উদ্বেগ ও আবেগের মধ্যে দেখা গিয়েছে। সেখানে তিনি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, যদি রাজ্য প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে আদালত নিজেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন : SIR তালিকা থেকে নাম ‘ডিলিট’ ! স্বস্তি দিয়ে বড় ঘোষণা কমিশনের
এদিকে, মালদহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ধৃতদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। এই ঘটনার যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথি জাতীয় তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।












