চিনে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা! প্রভাবিত হবে ভারত? কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা?

Published on:

Published on:

The number of Covid-19 cases in China is increasing.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: চিনে ফের করোনাভাইরাস (Covid-19) আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি ২০২০ সালের মতো গুরুতর না হলেও পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে ইতিমধ্যেই চিনে (China) বিপুলসংখ্যক মানুষ করোনা (Coronavirus) আক্রান্ত হয়েছেন। চিনের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এবার সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালেও বেশিরভাগ রোগীর উপসর্গ মৃদু এবং গুরুতর রোগীর সংখ্যা খুবই কম। গত জুন মাসে চিনে প্রায় ৭৯,০০০ নতুন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩০ জনের অবস্থা ছিল গুরুতর এবং একজন মারা যান।

চিনে হু হু করে বাড়ছে করোনা (Covid-19) আক্রান্তের সংখ্যা:

চায়না সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (China CDC) তথ্য অনুযায়ী, ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট এনবি.১.৮.১ বর্তমানে ওই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভেরিয়েন্টটি এখন মাঝারি পর্যায়ে ছড়াচ্ছে। CDC-র ১৩ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পজিটিভিটি হার এক সপ্তাহ আগের প্রায় ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইনফ্লুয়েঞ্জার পজিটিভিটি হার কমে ১২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মানে হল, চলতি বছর করোনা ভাইরাস, ফ্লু-এর চেয়েও বেশি সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। চিনের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন , বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, গলা ব্যথা এবং সর্দির মতো হালকা উপসর্গ দেখা গিয়েছে। তবে, অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

The number of Covid-19 cases in China is increasing.

ভাইরাসটি এত দ্রুত ছড়াচ্ছে কেন: বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বেশি সময় কাটায়। এছাড়াও, গ্রীষ্মের ছুটিতে ভ্রমণ বেড়ে যায়। যা ভাইরাসটিকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়। তবে, চিকিৎসকরা বলছেন যে নতুন ভেরিয়েন্টগুলি  আগেরগুলির চেয়ে বেশি গুরুতর নয়। তাই, সংক্রমণ বাড়লেও হাসপাতালে আক্রান্তের ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা আনুপাতিক হারে বাড়েনি। চিনের চিকিৎসকদের মতে, গত বছর মে মাসে করোনার পজিটিভিটি রেট ২০ শতাংশেরও ওপর ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এবার সংক্রমণের হার সেই স্তরের অনেক নিচে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী সংক্রমণ এবং টিকা থেকে অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পায়। এমতাবস্থায়, আগামী মাসগুলিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সময়ে সময়ে বাড়তে পারে এবং কিছু কিছু জায়গায় সীমিত প্রাদুর্ভাবও দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে ৭০,২৮৭ কোটি টাকার টোল ট্যাক্স আদায়! রাজস্থান-মহারাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে শীর্ষস্থানে এই রাজ্য

ভারতের কী উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন: জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে ভারতের জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, চিনে ছড়িয়ে পড়া এনবি.১.৮.১ ভেরিয়েন্টটি আগের মতো বিপজ্জনক বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এছাড়াও, ভারতেও এই ভভেরিয়েন্ট সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: বড় মাইলফলক অর্জন ভারতীয় রেলের! কলকাতা বন্দর থেকে নেপালে পৌঁছল প্রথম বাণিজ্যিক মালবাহী ট্রেন

তবে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, চিনে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও, মহামারী বা বড় কোনও স্বাস্থ্য সঙ্কটের তাৎক্ষণিক কোনো আশঙ্কা নেই। এমতাবস্থায়, ভারতের জন্যও এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা।